নজরুল ইসলাম

একদিকে বিশ্বের এক নম্বর দল ভারত। আর অপরদিকে নয় নম্বর দল বাংলাদেশ, একদিকে বিরাট কোহলিরবি চন্দ্রন অশ্বিনদের মত বিশ্ব সেরা পারফরমার। আর অন্য দিকে সাকিবমুশফিকদের মত লড়াকুরা। নিজেদের মাঠে একে টেেক প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে উড়তে থাকা ভারত আর অন্য দিকে সদ্য নিউজিল্যান্ডে বিধ্বস্ত হয়ে আসা বাংলাদেশ। তেমনই এক কঠিন বাস্তবতায় আজ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। লড়াইটা যখন নিজেদের মাটিতে তখন শত যুক্তি তর্ক থাকলেও একেবারে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই আজ টাইগারদের সামনে ভারত। তারপরও ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। সে অনিশ্চয়তার দোলাচলে বাংলাদেশ যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে হয়তো নিউজিল্যান্ডের মত একেবারে নাস্তানাবুদ হতে হবে না টাইগারদের। আর সে লক্ষ্য নিয়েই প্রায় দেড় দশক পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মত টেস্ট অভিযানে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের পর একই বছরের ১০ নভেম্বর দেশের মাটিতে ভারতের হাত ধরেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর কেটে গেলেও ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। তাও আবার সবগুলোই নিজেদের মাটিতেই। নানা সময় দেন দরবার হলেও ভারতে গিয়ে কোন টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে খুলেছে সে বন্ধ দুয়ার। আর সে দুয়ার দিয়ে নতুন এক জগতে প্রবেশ করতে চাইছে মুশফিকের দল। তবে রাস্তাটা মোটেও মসৃণ নয়। বড়ই কণ্টকাকীর্ণ। আর সে বন্ধুর পথে হাঁটা শুরু টাইগারদের আজই।

আজ থেকে শুরু হওয়া টেস্ট ম্যাচের সব স্রোতই বাংলাদেশের প্রতিকূলে। একদিকে দুর্দান্ত ফর্মে ভারতীয় ক্রিকেট দল। দেশের মাটিতে এমনিতেই দুর্দান্ত তারা সব সময়। তার উপর আলাদা ভাবে ক্রিকেটারদের কথা ভাবলেও যোজন যোজন এগিয়ে স্বাগতিক ভারত। বাংলাদেশের প্রাণশক্তি বলতে সামান্য পারফরম্যান্স যা নিউজিল্যান্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিল বাংলাদেশ। বাকিটা পুরোটাই হতাশা। তারপরও হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন পথে হাঁটতে হায় টাইগাররা। শুরু করতে চায় নতুন করে। বিরাট কোহলির মত বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যান কিংবা অশ্বিনের মত বিশ্ব সেরা বোলারদের দিকে তাকাতে চাননা মুশফিকতামিমসাকিবমিরাজরা। লক্ষ্য একটাই। আর তা হলো ভাল খেলা। নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলা। দেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখ স্মৃতি নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়া বাংলাদেশ ফিরেছে একেবারেই রিক্ত হাতে। তবে সে সিরিজ এখন অতীত। এটি নতুন একটি সিরিজ। নতুন যাত্রা। আর সে যাত্রাটা নতুন করেই করতে চান টাইগার দলপতি মুশফিক। হতাশা যে ঝেড়ে ফেলেছেন টাইগার দলপতি, সেটা তার কথাতেই স্পষ্ট। এখানে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। যা আছে সবই প্রাপ্তির। প্রাপ্তির খাতা খোলার সুযোগ যখন রয়েছে তখন সেটাকে কাজে লাগাতে দোষ কি। স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতরাতে পারাটা বীরত্বের। তাইতো ভারতের বিপক্ষে এমন টেস্টে ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিলেন মুশফিক। টাইগার দলপতি বললেন, দলগতভাবে ভালো খেললে সাফল্য আসবে। ভারত খুব শক্তিশালী দল। বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। ভারত কতটাই শক্তিশালী সেটা সহজেই বুঝা যাবে তাদের সাম্প্রতিক সময়ের পাঁচটি সিরিজের দিকে চোখ রাখলে গেল পাঁচ সিরিজে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করেছে টিম ইন্ডিয়া। হারেনি টানা ১৮ ম্যাচে। এমন ইস্পাত কঠিন দৃঢ় একটি দলকে হারানোর স্বপ্ন দেখাটাও কঠিন। তারপরও টাইগার দলপতির এমন টেস্টে ভালো করার ইঙ্গিত দিলেন মুশফিক।

ফল যাই হোক না কেন ভাল ক্রিকেট খেলাটাই বাংলাদেশের মূলমন্ত্র। প্রথমবারের মত ভারতের মাঠে খেলতে নামলেও কন্ডিশন আর উইকেট সম্পর্কে ধারণাটা ঠিকই আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। আর সেখান থেকেই কিছুটা সুবিধা আদায় করাটা এখন তাদের লক্ষ্য। পুরো দল এক হয়ে এক সুতায় গাঁথা মালা হয়ে খেলতে চায় টাইগাররা। আর সেটা পারলেই ভাল কিছু আসবে এই টেস্ট ম্যাচ থেকে। আর সে রকম কিছু করার মত রসদও দলে রয়েছে বলে জানালেন টাইগার দলপতি। এ ম্যাচে দায়িত্বটা কার বেশি হবে? ব্যাটসম্যানদের নাকি বোলারদের। অবশ্য সেভাবে দায়িত্ব বণ্টন করতে চান না মুশফিক। তার চাওয়া একটাই। আর তা হলো পুরো দল একটি ইউনিট হয়ে খেলা। যেখানে জয় কিংবা পরাজয় বড় কথা নয়। টেস্ট ম্যাচটাকে পুরো পাঁচ দিনে নিয়ে যেতে পারাটাই বড় কথা।

এদিকে বাংলাদেশ যখন ভাবছে কিভাবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের আটকাবেন কিংবা স্বাগতিক বোলারদের কোন কৌশলে মোকাবেলা করবেন। তখন অবশ্য বাংলাদেশকে নিয়ে খুব একটা ভাবনা থাকার কথা নয় ভারতের। তারপরও দলটির অধিনায়ক প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। তার সাফ জবাব। নিজেদের সেরাটা দিয়ে মোকাবেলা করতে চান টাইগারদের। আগের প্রতিপক্ষদের যেভাবে মোকাবেলা করেছে এ ম্যাচেও তাদের লক্ষ্য একই। কোন পরিবর্তন নেই। নিজেদের অজেয় রাখার রেকর্ডটাকে আরো বাড়িয়ে নেওয়াটাই কোহলিদের লক্ষ্য। তাই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে টাইগারদের সেটা একেবারে দিবালোকের মত স্পষ্ট। আর সে কঠিন পরীক্ষা কতটা উৎরাতে পারেন মুশফিকরা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

 

LEAVE A REPLY