আজাদী প্রতিবেদন

ভিয়েতনাম থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত চাল খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। খাদ্যশস্য খালাসের জন্য এতদিন একটি বার্থ নির্ধারিত থাকলেও ভিয়েতনাম থেকে আসা সরকারি চাল খালাসের জন্য গতকাল থেকে তা দুইটি করে দেয়া হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ডব্লিউটিসি থেকে লাইটারেজ জাহাজ প্রাপ্তিতে সমস্যার কারনে চাল খালাস বিলম্বিত হচ্ছে। বন্দরের বহির্নোঙরে অপে মান দুইটি জাহাজের চাল খালাস দ্রুততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য অধিদপ্তর সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। অপরদিকে আগামী ২১ জুলাই ২১ হাজার ৫০০ টন আতপ এবং ৩০ জুলাই ৩০ হাজার টন সেদ্ধ চাল নিয়ে আরো দুইটি জাহাজ বন্দরে আসছে। আগামী মাসে আরো ছয়টি জাহাজে ভিয়েতনাম থেকে সরকারি চাল চট্টগ্রাম পৌঁছবে বলেও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

ভিয়েতনাম থেকে সরকারী পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে সর্বমোট ২ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ টন চাল আমদানি হচ্ছে। এই চালের প্রথম দুইটি জাহাজ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরমধ্যে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছে এমভি ভিসাদ নামের একটি জাহাজ। জাহাজটির ড্রাফট সামান্য বেশি হওয়ায় বহির্নোঙরে আড়াই হাজার টন চাল খালাস করে ড্রাফট কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু বহির্নোঙরে চাল খালাস করতে গিয়ে নতুন নতুন সংকটে পড়ে জাহাজটি। লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল বা ডব্লিউটিসি থেকে প্রথমে দুইটি লাইটারেজ জাহাজ পাঠানো হয়। কিন্তু জাহাজ দুইটি খাদ্য অধিদপ্তর বাতিল করে দেয়। সিমেন্ট ক্লিংকার পরিবহন শেষে জাহাজ দুইটি চাল আনতে গিয়েছিল। যাতে জাহাজের তলানিতে লেগে থাকা ক্লিংকারে চাল নষ্ট হবে বলে জাহাজ দুইটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ডব্লিউটিসিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ভালো এবং পরিস্কার জাহাজ পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়। এই চিঠির প্রেক্ষিতে ডব্লিউটিসি থেকে পরিস্কার জাহাজ দেয়া হয়। কিন্তু জাহাজ থেকে চাল লাইটারিং কার্যক্রম দফায় দফায় ব্যাহত হচ্ছে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে।

আড়াই হাজার টন চাল লাইটারেজ জাহাজে বোঝাই করার পর এমভি ভিসাদ নামের জাহাজটির গতকাল বন্দরে এসে বার্থিং নেয়ার কথা ছিল। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট ইউনি শিপিং থেকে পাইলট বুকিং থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু রাতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় জাহাজটি থেকে চাল খালাস বন্ধ থাকে। জাহাজের ক্যাপ্টেন হ্যাচ না খোলায় চাল খালাস সম্ভব হয়নি। এতে করে জাহাজটির গতকাল বন্দরে ভিড়ার সিডিউল ভুন্ডুল হয়ে যায়। গতকাল সকাল থেকে জাহাজটি থেকে চাল খালাস করা হচ্ছে। আজ সকালের জোয়ারের সময় জাহাজটি বন্দরের জেটিতে বার্থিং নিয়ে চাল খালাস করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে ভিয়েতনাম থেকে ২৭ হাজার টন আতপ চাল নিয়ে আসা অপর জাহাজ এমভি প্যাক্স থেকেও ২২শ’ টন চাল লাইটারেজ জাহাজে খালাস করে জাহাজটির ড্রাফট কমাতে হবে। এই জাহাজ থেকে চাল লাইটারিং করার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। চাল লাইটারিং করার পরই কেবল এই জাহাজটিকে বন্দরের ভিতরে আনা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (এডমিন এন্ড প্ল্যানিং) মোহাম্মদ জাফর আলম গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে এমভি ভিসাদ নামের জাহাজ থেকে চাল লাইটারিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এতে করে জাহাজটি ভিতরে আনা সম্ভব হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে সমস্যা হয়েছে।

বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে যাওয়া উক্ত দুইটি জাহাজ ছাড়াও চলতি মাসে আরো দুইটি জাহাজ আসছে ভিয়েতনাম থেকে। এরমধ্যে একটি জাহাজে ২১ হাজার ৫শ টন চাল থাকবে। এই জাহাজটি বন্দরে পৌঁছবে ২১ জুলাই। ৩০ হাজার টন সেদ্ধ চাল নিয়ে অপর একটি জাহাজ ৩০ জুলাই বহির্নোঙরে নোঙর করবে বলেও ইউনি শিপিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব আবুল হোসাইন জানিয়েছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উক্ত জাহাজগুলো ছাড়াও আগামী মাসের শুরুতে ভিয়েতনাম থেকে চাল নিয়ে আরো ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। ভিয়েতনামের বন্দরে জাহাজগুলোতে চাল বোঝাই করা হচ্ছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

ভিয়েতনাম থেকে চাল নিয়ে আসা জাহাজগুলো যাতে জটে না পড়ে সেজন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দরের একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, এতদিন আমাদের জেনারেল কার্গো বার্থে খাদ্য শস্যের জন্য একটি বার্থ নির্ধারিত ছিল। ভিয়েতনাম থেকে ব্যাপক হারে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় গতকাল থেকে আমরা দুইটি বার্থ নির্ধারণ করে দিয়েছি। অর্থাৎ এখন থেকে দুইটি বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাদ্যশস্য বার্থিং পাবে। খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ না থাকলেই কেবল জেনারেল কার্গোবাহী অন্যান্য জাহাজ বার্থিং পাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে খাদ্যশস্য খালাস দ্রুত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY