আজাদী প্রতিবেদন

সম্প্রতি দেশে নতুন নতুন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব এবং সীতাকুন্ডে অজানা রোগে (হাম) শিশুমৃত্যুর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদি প্রাণিবাহিত রোগ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। তাই বাংলাদেশের মানুষ ও প্রাণিদের রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরোধে ওয়ান হেলথ শিক্ষা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে গতকাল নগরীর জিইসি মোড়ে একটি কনফারেন্স হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘প্রমোটিং ওয়ান হেলথ এডুকেশন এট টারশিয়ারি লেভেল থ্রো ইউনিভার্সিটি নেটওয়ার্কিং ইনসাইড বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের প্রায় ৬০ জন শিক্ষক ও গবেষক অংশ নেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এম জুনায়েদ সিদ্দিকী। রোগ প্রতিরোধসহ মানুষ, পশুপাখি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের ভূমিকা তুলে ধরে ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী বলেন, এ ইনস্টিটিউট মানুষ এবং পশুপাখির সেবায় বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। আর এই ওয়ান হেলথ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যেও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। তাহলে যেকোন রোগ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকরী ভূমিকা রাখা যাবে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ ওয়ান হেলথ বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগ্রহী হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে বলেন, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ওয়ান হেল্‌থ বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানের লক্ষ্যে কোর্স কারিকুলাম তৈরির কাজ চলছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লেভেলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো হবে। ওয়ান হেলথ বিষয়ক পেশাজীবী তৈরি হলে দেশের মানুষের ও প্রাণিদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এ প্রক্রিয়ায় আমাদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও এফএওএর বাংলাদেশস্থ ওয়ান হেলথ্‌ কোঅর্ডিনেটর প্রফেসর ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্ভর করে আশেপাশের পশুপাখিদের উপর। ঠিক যেমন মশার কারণে চিকনগুণিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, তেমনি পশুপাখি রোগাক্রান্ত হলে মানুষদের মাঝে সেটার প্রভাব পড়ে। তাই এখন রোগ প্রতিরোধে সবার একযোগে একাত্ন হয়ে কাজ করার সময়। এটা সহজ কাজ নয়, সবার রোগ প্রতিরোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদি আমরা এখনই এক না হই তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় সমস্যায় পড়তে হবে। সেই লক্ষে ওয়ান হেলথের যাত্রা। তাই ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ চিকিৎসার সাথে জড়িত মেডিকেল কলেজগুলোর সাথে এক হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের মানুষ ও প্রাণিদের রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরোধে ওয়ান হেলথ শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মানুষপশুপাখি এবং পরিবেশের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। কিছু রোগ দ্রুত ছড়ায়। এসব রোধে সচেতনতা প্রয়োজন। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন রোগ ও মহামারী ছড়িয়ে পড়া রোধে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার যে উদ্যোগ নিচ্ছে সেটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

ওয়ান হেলথ নেটওয়ার্কের সাফল্য কামনা করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নয়াদিল্লিস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল আট্যাশে মার্ক আর. ওয়ালেস বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ছে। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও রোগের প্রকোপ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া মানুষ এবং পশুপাখির মাঝে যেভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ে সেটা প্রতিরোধে এরকম ওয়ার্কশপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন মার্ক আর. ওয়ালেস।

ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ফার্ম) প্রফেসর ড. মো. আশরাফ আলী বিশ্বাসের পরিচালনায় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কবিরুল ইসলাম খান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ইমরান বিন ইউনুস, প্রফেসর ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, আইইডিসিআর এর বিশেষজ্ঞ ড. সেলিমউজ্জামান।

LEAVE A REPLY