আজাদী প্রতিবেদন

‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বদলে দেব বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে গতকাল ১৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’। গতকাল বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তর বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রম তুলে ধরেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মমিনুল হক। তিনি বলেন, কর্মসূচির প্রথম দিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই (মঙ্গলবার) নগরীতে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা করা হয়েছে। এছাড়া ১৯ জুলাই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সুধী সমাবেশ আলোচনা সভা ও মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। এছাড়া সার্কিট হাউস থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত একটি র‌্যালি ও আসকার দীঘিতে রুই মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়। ২০ জুলাই তৃতীয় দিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মৎস্য চাষ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার চতুর্থ দিনে ফরমালিন বিরোধী অভিযান ও মৎস্য আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ২২ জুলাই পঞ্চম দিন মৎস্য খাতে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে। ২৩ জুলাই হাটবাজার ও জনবহুল এলাকায় মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও প্রমাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ২৪ জুলাই সমাপনী দিনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ মূল্যায়ন সভা ও মৎস্য চাষে অবদানকারীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

পরে দেশের মৎস্য সম্পদের ওপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন মৎস্য কর্মকর্তা মমিনুল হক। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। হালদায় প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে মমিনুল হক বলেন, হালদা দেশের একমাত্র রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র। হালদা রক্ষায় আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছি। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয় তদারকি করা আমাদের বিভাগের ওইভাবে দায়িত্ব না পড়লেও হালদা রক্ষা কিন্তু আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। হালদায় ‘মা মাছ’ নিধন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ উপ-পরিচালক প্রভাতি দেব, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সমুদ্র দপ্তরের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা মৎস্য পরিদর্শক জহিরুল হক, জেলা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY