গত ২৫ মে পর্যটন বিষয়ক গাইডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে, চট্টগ্রামে পর্যটনের বড় পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের দুই মন্ত্রী মহোদয় অনেক আশার বাণী শুনিয়ে গেলেন। কিছুদিন আগে নৌ মন্ত্রী মহোদয় বলে গেলেন মহেশখালের মুখে ুইস গেইট নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন ও সড়ক চার লেইনে প্রশস্থ করেন। কালুরঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু, শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক, কর্ণফুলী টানেল, নির্মাণ ইত্যাদি এসব বড় পরিকল্পনার কথা মন্ত্রী মহোদয়ের মুখে শুনি, পরদিন পত্রিকার পাতায় ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন বা বাস্তবায়ন দেখতে পাই না। আজ পতেঙ্গায় পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এই এলাকায় সেই পরিবেশ নেই। কারণ কাঠগড় সি বিচ ও পুরাতন বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি কন্টেনার ডিপো গড়ে উঠেছে, যা পর্যটন শিল্প বিকাশে অন্তরায়।

এই বিচে আমরা মাঝে মাঝে যেতাম কিন্তু ট্রেইলার কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ইত্যাদির অসহনীয় যানজটের কারণে এখন আর যাওয়া হয় না। এসব জঞ্জাল রেখে কিভাবে পতেঙ্গাকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হবে এটা আমার জিজ্ঞাসা। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী মনে হয় সতের বছরের মেয়র থাকা অবস্থায় ১৭টি বাজেট বক্তৃতায় বলেছিল, পতেঙ্গায় পর্যটন কেন্দ্র করা হবে, সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণ করে সূর্য ডোবা দেখা হবে। অ্যাকোরিয়ামের মাধ্যমে সাগরের তলায় মাছ দেখানো হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু কোনো কিছু কি করা হয়েছে? চট্টগ্রামে সব বড় বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, তবে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, কারণ বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা বলবে আমাদের আরেকটি বার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেয়া হোক, তাহলে চট্টগ্রামের এসব অসমাপ্ত কাজ আমরা সমাপ্ত করব।

বিরোধী দল থেকে বলা হবে, এরা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে যা করতে পারে নি আমরা ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামের এই বৃহৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আসলেই কিছুই হবে না, যত দিন চট্টলবাসী ‘দলমত’ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ না হবে, ততদিন এই চট্টলা তার ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবে। মন্ত্রী, এমপিগণের কথার ফুল জুড়ি নয়, (যারাই ক্ষমতায় থাকুক) আমরা চট্টলবাসীরা চাই সঠিক পদক্ষেপ ও কাজের সত্যিকার বাস্তবায়ন।

জসিম উদ্দিন, জেবি স্টোর, বন্দর, চট্টগ্রাম।

LEAVE A REPLY