সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে পাহাড় কেটে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫ পরিবারকে গতকাল রোববার সরিয়ে আনা হয়েছে। এদিকে গত শুক্রবার পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৫জন মারা যাওয়ার পর জেলা প্রশাসক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ওই এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হাইস্কুল ও কয়েকটি মাদ্রাসা। রাতের আঁধারে বেড়েছে চুরির ঘটনাও। জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বাজার সংলগ্ন এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি লঙ্গরখানা খোলা হয়। এখানে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, এস এম পাইলট প্রাইমারী বিদ্যালয়, শাহ আমানত কিন্ডার গার্টেন, এলপাভেট কিন্ডার গার্টেনসহ চারটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়।

ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মশিউর রহমান বলেন, গতকাল রোববার পাহাড়ে বসবাসরত ৩৫ পরিবারকে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। পানির অভাবে রান্না বন্ধ রয়েছে। রোববার এলাকায় লঙ্গরখালা খোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ এলাকায় প্রায় এক লাখ লোক বসবাস করে। দীর্ঘ ১৫বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। হয়েছে স্কুল, মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এখানে লেখাপড়া করে প্রায় চার হাজার শিশু। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থী এ এলাকায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাহাড় থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবারগুলোকে নিচে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার পর সেখানে চুরি ঘটনা বেড়ে গেছে। পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা জানান, বসতঘরে তালা মেরে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর একটি চোরের দল তাদের বাসা থেকে মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে মহিলারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসলেও পুরুষরা রাতে বসতঘরেই অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে। এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, দুর্যোগে কারণে স্কুলটি আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে স্কুল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, অতিবৃষ্টিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসের ঘটনায় তিন শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন মারা যায়। এতে আহত হয় আরও চারজন। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার নির্দেশ দিলে বিদ্যুৎ বিভাগে ওই এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

LEAVE A REPLY