ফজলুল হক

স্যার, ব্রাজিলের টিকেট কখন কাটব?

যেখানে আমার জন্ম হয়েছেসে এলাকা হালিশহর মুনীর নগর এখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অংশ হলেও ৬৭ বছর আগে তাকে অজ পাড়াগাঁ হিসেবে গণ্য করা হতো। তখন আমাদের জীবনে বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো, গাছে উঠা, দিঘির জলে সাঁতরানো, পাখির বাসায় হানা দেয়া, ধানের ক্ষেতে ফাঁদ পেতে ছোট পাখি ধরা, গুলতি মেরে বক, মাছরাঙ্গা, ঘুঘু ঘায়েল করা, গাছের ডালে উঠে পুকুরের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো দুর্দান্ত ঘটনা থাকলেও ফেসবুক, ইনাস্টাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউব ছিল না। তখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের দরকার হতোনা। আমাদের সমাজ ছিল অফলাইন বা ম্যানুয়েল গিট দ্বারা যুক্ত। টিভির কথা কল্পনায় ও ছিলনা। ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, এসএমএস, মেইল জাতীয় শব্দ তখনকার ডিকশনারিতে লেখা হয় নাই। রেডিও ছিল, কলের গান ছিল, হিজ মাস্টার্স ভয়েস লেখা গ্রামোফোন রেকর্ড ছিল কিন্তু আমার পাড়ায় ওসব দেখেছি আরও অনেক পরে। ঢাকা থেকে পত্রিকা আসত এক দিন পরে। কোলকাতা থেকে আনন্দবাজার আসত ২/৩ দিন পর। আমরা সব কালে সব সময় শহরের বাসিন্দা। আমাদের আদি জীবন যদি এ রকম হয় তাহলে আজকের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম ৭০ বছর আগে কেমন ছিল?

আমাদের দেউডি ঘর (বাংলা ঘরের) উত্তরের জানালা খুললে অবারিত মাঠ, দিগন্তে আকাশ হেলে পড়েছে, কমর শাহ পুকুরের (কইশ্যা পুকুর নামক বিশাল দিঘি) কালো জল, নিঃসঙ্গ ঘাট, দেখতাম বন্দর ইয়ার্ড থেকে আসা মালবাহী রেলের বগি টানছে কয়লা চালিত পরিশ্রান্ত ইঞ্জিন। তার কালো ধোঁয়া, হুস্‌ হুস্‌ আর্তনাদ, কুউ হুইসেল আমাদের রোমাঞ্চিত করত। আমাদের পৃথিবী ছোট ছিল। এখন বিশ্ব আমাদের হাতের মুঠোয়। এখন আমাদের জীবনে আছে গেম্‌স, ফেসবুক, টুইটার. . .। অতীত কিভাবে হারিয়ে যায়। হারানো অতীত হৃদয়ের গহীনে, অবচেতন প্রকোস্টে কিভাবে হাসায়, কাঁদায়, ভাবায়সে সব বোঝানোর সাহিত্য প্রতিভা আমার নাই। যে দিন চলে গেছে তার জন্য আফসোস করি। সে কি আর ফিরে আসবে? আসে অন্য ভাবে। অতীতের প্রভাব থেকে বর্তমানভবিষ্যত দূরে থাকতে পারে না। আবার ফিরে যেতে চাই সে গ্রামে।

অতীত ফিরে আসতে পারে, হয়ত ফিরে আসে, যে ভাবে আমি চাইসে ভাবে নয়। হয়ত সে যেভাবে আসতে চায়সেভাবে আসে। আমার এক ছাত্র ম্যাসেঞ্জারে আমাকে ধরে। আমি কি তত চালু? আমার নাতিদের চাইতেও কম চালু আমি। আমি আজকের ফেস্‌ টু ফেস্‌ মিডিয়ার কাছে কাবু। সে ছাত্রের সাথে কথা বলে আনন্দ পাই। নরম, অমায়িক ভাষা। তার এখন প্রচুর টাকা। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিজনেস জায়ান্ট বলা হচ্ছে, সে বলে, স্যার, কি খাবেন? আপনার জন্য কি পাঠাব? বিশ্বব্যাপী তার ব্যবসা, তো আমি কি খাব? আমি হেসে বলি, কি খাওয়াবি? সে বলে, স্যার, আপনার মন যা চায়। আমি বলি, বাঘের দুধ আর উট পাখির ডিম খেতে চাই, পাঠাতে পারবি? সে বলে, স্যার, আপনার কাছে পড়তাম। বাবার কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আনতাম, কিন্তু আপনার টাকা দিই নাই। আপনিও কিছু বলেননি। স্যার কিভাবে ঋণ শোধ করব? আমি বলি, ফেসবুকে প্রোফাইল ছবিতে তোকে দেখব, ছবিতে তোর পিঠে একটা কিল দিব। তাতে ঋণ শোধ হয়ে যাবে। সে বলে, আমি খুঁজব। আমি বলি, কি খুঁজবি? সে বলে, বাঘের দুধ আর উট পাখির ডিম। স্যার, টাকা দিলে নাকি বাঘের চোখ মিলে? কানেকশন কেটে যাওয়ার প্রাক্কালে আমার ছাত্র বলে, আপনাকে এমন কিছু খাওয়াব যা কেউ কোন দিন খায়নি। আমি বলি, দূর পাগলা।

আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাহেবকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুব পছন্দ করি। উনি ভাল মানুষ। জ্ঞানী মানুষ। মন্ত্রণালয় ভাল চালাচ্ছেন। পত্রিকায় দেখি, উনি বলেছেন, ‘আমি একজন কর্মী, শিক্ষকরা চিরকাল ধরে আছেন। উনারা গুরু। আগে গুরুর কথায় মানুষ জীবন দিয়া দিত। শিক্ষকদের কাছে আমরা সেটাই প্রত্যাশা করব। লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষকরা তা ঠিক ভাবে করছেন।’ শিক্ষামন্ত্রী যা বলেননি, সেটা হলো, একজন শিক্ষকের ক্ষমতা অসাধারণ। সত্যিকার শিক্ষকের আনন্দ কেউ কল্পনা করতে পারবেনা।

শিক্ষকতা ভাল পেশা। এখন বেতন ভাতা কম নয়। শেষ জীবনে ছাত্র ছাত্রীরা স্যারকে মাথায় তুলে রাখে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে আমার খোঁজ খবর নেয়, মনে হয় আমার হাজার হাজার সন্তান আছে। ডায়াবেটিস, ডাক্তারের নিষেধ কিছু খেতে পারি না, ছাত্রছাত্রীরা বলে, স্যার, আপনি না খেলে মনে কষ্ট পাবো। গতকাল এক প্রাক্তন ছাত্রীর অনুরোধে এক পিস কেক খেয়ে ফেলি। শিক্ষকের চাকুরী বেতন ভাতা দিয়ে পরিমাপ করা যায়না। টাকার মাপে সব মাপা যায় না। কেক খেয়ে রক্তে সুগার বেড়েছে। ছাত্রীটি কিন্তু খুশী।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, “বেতন বাড়ার কারণে এমন কিছু লোক শিক্ষকতা পেশায় ঢুকেছেন, যারা ক্লাসে পড়ান না। শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ক্লাসে পড়ালেই তো শেষ হয়ে যায়। তা না করে সে শিক্ষক নামধারী লোক ক্লাসে না পড়িয়ে বাইরে পড়ায়। এই শিক্ষক নামধারীরা শিক্ষার্থীর বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়। কিছু শিক্ষক কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর আগে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কালো গ্লাসের গাড়ি নিয়ে প্রশ্ন আনতে যেত। যেন সেখানেই কাজটা সেরে ফেলতে পারে। আমরা সে সব ক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন নিয়ে কেন্দ্রে না যেতে ও কালো গ্লাসের গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি।” প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তারের কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী, দেখুন, শিক্ষকের অবস্থা। মন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে প্রিন্সিপাল, হেড মাষ্টার অন্যান্য শিক্ষকও রয়েছেন। তারা শিক্ষকদের কলঙ্ক। এ ধরনের লোক শিক্ষক থাকতে পারবেনা। এটা আমাদের সবাইকে চিহ্নিত করতে হবে। (ইন্টারনেট থেকে নেয়া, সময়ের কণ্ঠস্বর, ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার/ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী) আমাদের দেশে অতীতে শিক্ষকতা পেশায় টাকার লোভে কেউ আসতনা। এটা একটা নেশার মতো। এই শিক্ষকরাই এ জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু এখন ভেজাল মিশে গেছে। অনেকে টাকার জন্য আসে। তারা জানেনাশিক্ষকতা কি মজার পেশা। একজন সত্যিকার শিক্ষকের জন্য টাকা কোন ব্যাপারই না। ছাত্র তার শিক্ষককে সব কিছু দিতে প্রস্তুত। কিডনি চাইলে কিডনি দেবে, রক্ত চাইলে রক্ত দেবে, জান চাইলে জান দেবে। কথাটা আপনার বিশ্বাস না হতেও পারে। অবিশ্বাস্য কাহিনী বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার। ব্যাপারটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

আমার এক ছাত্রের কথা বলছিলাম, আমার ছাত্রটিকে আমি বলি, বাঘ কোথায় পাওয়া যায় জানস? সে বলে, সুন্দরবনে। আমি বলি, তুই কি দেশে এসেছিস? না এলে বাঘ মারতে যাবি ক্যামনে? সে বলে, স্যার আমি তো দৌড়ের মধ্যে থাকি। আজ হেলসিংকি তো কাল মাদ্রিদ। তাতে কি? আপনার জন্য সুন্দরবনে যাব, না আমাজানে যাবো? আপনি বলে দিন। সে বলে, স্যার, নির্বাচনের আওয়াজ পাচ্ছেন? আমি বলি, আওয়াজ কম পাই। কানের সমস্যা। সে বলে, তাতে কি স্যার? আমার কান আছেনা? আপনাকে দিয়া দিব। আরেক জনের চোখ দিয়া আপনি স্যার দেখতেছেন না? স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট অসম্ভবকে সম্ভব করে দিয়েছে। স্যার নির্বাচনের কথা বলেন। আমি বলি, ভোট হবে। আমি ভোট দিতে যাব। তুই ভোটে দাঁড়ালে তোকে ভোট দিব। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অন্ধ। সে বলে, আমি নির্বাচন করব কিন্তু আমি প্রার্থী হবনা। আমি বলি, প্রার্থী কে হবে? সে বলে, আপনাকে দাঁড় করাব। টাকা হাতের ময়লা। আপনার ঋণ শোধ করার এটা শ্রেষ্ঠ উপায়। আপনার জন্য যদি ১০ কোটি টাকা ব্যয় করি, তবুও ঋণ শোধ হবে না। একথা বলে, সে হাসতে থাকে। তারপর হঠাৎ সিরিয়াস ভাব কণ্ঠে এনে বলে, স্যার, আমাকে সরকারি দল মনোনয়ন দিতে চাচ্ছে। আমি বলেছি, যদি স্যারকে সংসদে নিতে পারি, তাহলে আমি সংসদে যাব। আমি বলি এতটাকা কামাইছস, বিশাল ব্যবসা সাম্রাজ্য চালাস, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে তোর মাখামাখিএখনো তোর মাথা ঠিক হয়নি? সে বলে, আপনিই তো মাথা গরম করে দিচ্ছেন? আপনি ঋণ শোধের সুযোগ দিবেন না? আমি বলি, ঋণ শোধের আরো উপায় আছে। সে বলে, সেটা কি? আমি বলি, আমাজান ফরেস্টের এক বিরাট অংশ পড়েছে ব্রাজিলে। আমাকে ব্রাজিল নিয়ে যা। সে বলে, সেখানে কি আছে? আমি বলি, গবেষকগণ আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ করে জানতে পেরেছেন, আমাজানের গহীন অরণ্যে, (যাকে তাদের সরকার সংরক্ষিত এলাকা এবং মানুষের জন্য যাওয়া নিষিদ্ধ এলাকা বানিয়ে রেখেছে) সে অরণ্যে আদিবাসীরা আছে, তারা এখনো ২০০/৩০০ বছরের পুরোনো সামাজিক ব্যবস্থায় রয়ে গেছে। সেখানে আজকের সভ্যতার আলো পৌঁছেনি। মানুষ গুলো নদী এবং জঙ্গল থেকে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে। আমার সে প্রিয় ছাত্রকে বলি, তুই দয়া করে আমাকে সে আদিবাসীদের গ্রামে দিয়ে আসতে পারবি? আমি হালিশহরে জন্মেছি, ৬৭ বছর আগে সেটি গ্রাম ছিল। আমি মরতে চাই এমন এক গ্রামে যেখানে আজকের সভ্যতা প্রবেশ করেনি। রাত নামবে। বৃক্ষশাখে, বুনো লতায় জোনাকী জ্বলবে। চাঁদ উঠবে। ঝর্নার জলে প্রতিবিম্বিত হবে জোছনা। ঘুঘু ডাকবে। আতংকিত শেয়াল হু হু করে ভীতি প্রকাশ করবে। প্যাঁচা ডাকবে। জ্যোৎস্না ভাসাবে আমাকে। আমি এ দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই। আমি সে পরিবেশে মরতে চাই। সে বলে, স্যার, “ও কারিগর, দয়ার সাগর, ওগো দয়াময়, চান্নি পশর রাইতে যেন আমার মরণ হয়”আপনার বন্ধুর লেখা এই গান আপনি ভুলে যান। ভোলার চেষ্টা করুন। এর চাইতেও ভাল গান আছে স্যার। প্যারিসে এক কবি আমাকে একটি কবিতা শুনিয়েছে স্যার– “আমাকে একটি নেহাইয়ের উপর শায়িত করুন, আঘাতে আঘাতে আমাকে বানিয়ে দিন একটি পেরেক। তারপর টুকে দিন কড়িকাঠে, যেন আস্ত কাঠামো। আমি ধরে রাখতে পারি। হে ঈশ্বর, তোমার অসাধ্য কি? আমি পেরেক হবো, ধরে রাখবো পতন উম্মুখ কাঠামো।”

ছাত্রটি বলে, পতন উন্মুখ কাঠামো ধরে রাখবে কে? যদি আপনারা রাজনীতি থেকে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে, সমাজ সংষ্কারের কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন? আপনি আমাজান জঙ্গলে পলায়ন করতে চান, স্যার অবিশ্বাস্য। আপনাকে সাহসী বলে জানতাম। আমাজন জঙ্গলে যাবেন কিসের খোঁজে? আমি বলি, অতীতকে খুঁজে পেতে।

আমি বলি, বেটা শোন আমার একটা রোগ হয়েছে। সে বলে, কি রোগ? আমি পুরোনো ছাত্রছাত্রী পেলে কোনটা নিজের সন্তান, কোনটা ছাত্রছাত্রী চট্‌ করে প্রভেদ করতে পারি না। সে বলে, স্যার, সব রোগ খারাপ নয়।

সম্মানিত শিক্ষকগণ, আপনারা গণমাধ্যমে দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উনার শিক্ষককে চেয়ারে বসিয়ে নিজে বিনীত ভঙ্গিতে স্যারের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এটা শিক্ষকের গৌরব। যিনি সত্যিকার শিক্ষকদুনিয়ার সকল সম্পদ উনার পায়ের কাছে আসেযদি উনি চান। নেপোলিয়ান শুনেছেন যে ফ্রান্সের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক জ্ঞানী বাস করেন। নেপোলিয়ান জ্ঞানীকে দেখতে যান। তখন ভোর বেলা। সূর্য উঠছে। একটি পাইপের উপর বসে জ্ঞানী রোদ পোহাচ্ছে। নেপোলিয়ান বল্লেন, স্যার, আপনার জন্য আমি কি করতে পারি? জ্ঞানী বল্ল, মহান সম্রাট আপনি একটু সরে দাঁড়ান, সেটা হবে আমার প্রতি আপনার দয়া। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন বলে গায়ে রোদ লাগছে না।

আমার প্রিয় ছাত্রটি বল্ল, স্যার, আপনার জন্য ব্রাজিলের টিকেট কাটব। আপনি যেখানে যেতে চান নিয়ে যাব। হোক সেটা সংসদ, হোক সেটা আমাজন জঙ্গল।

লেখক : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ। অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

LEAVE A REPLY