মীর আসলাম ।। রাউজান

হারিয়ে যাচ্ছে আদি চাটগাঁইয়া ভাষা বা বুলি। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার অভ্যস্ত এখন চাটগাঁইয়া মানুষজন। এ অঞ্চলের প্রবীণ যারা তাদের মুখে এখনো কিছু কিছু চাটগাঁইয়া ভাষা শোভা পেলেও এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কাছে এর চর্চা নেই বললেই চলে। এ যুগে পরিবারের সাথে বেড়ে উঠা শিশুরা বড় হচ্ছে ইংরেজি মিশ্রিত তথাকথিত শুদ্ধ বাংলা চর্চায়। এই প্রজন্মের যারা পরিবারের সাথে থাকে তারা বাপ দাদার সাথে কথা বলার ফাঁকে এক আধটুকু চাঁটগাইয়্য বুলি বলতে শোনা গেলেও তারা পরিচিত নয় এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহার্য্য অনেক কিছুর নামের সাথে। এই দৈন্যদশা এখন শহর বন্দর ছাড়িয়ে গ্রামেও। জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে শহরের বসবাসকারী শত ভাগ ছেলে মেয়ে চাটগাঁইয়া ভাষায় প্রচলিত অনেক জিনিষপত্রে নাম বা শব্দ সম্পর্কে অজ্ঞাত। গ্রামেও এই সংখ্যা প্রায় আশি শতাংশ। চাটগাঁইয়া পরিবারের জন্ম নেয়া ছেলে মেয়েরা বাপ দাদার মুখে আদি ভাষায় পরিচিত কোনো জিনিষপত্রে নাম শুনে থমকে দাঁড়াতে হয়। অনেক সময় বর্তমান নামের সাথে আদি নামের মিল খুঁজে না পেয়ে বিব্রত হয় আজকের মেলে মেয়েরা। চট্টগ্রামের ভাষা থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু বহুল পরিচিত শব্দের মধ্যে রয়েছেউইরজ্যা, কুইজ্যা, কিরকি, দোয়াইন্যা, ডেইলা, অঁও, আইল্ল্যা, তেলঅইন, বরুনা, খঁইর, খরম, টেঁয়ারা, ফুরঅইন, ছিক্কা, টেঁইট্যা, টেঁইয়্যাজাল, ভানজ্যইন, আককৌয়া, চেরাগ, হুক্কা, দস্তরখানা, কালাআইট্যা, ফইচ্যা, চতুরা, পানছল্লাহ, মুসলমানি, নাকর বেশর, ভেনা, মোছাভাত, ছতরঞ্জি, ডোয়াডি, পঁয়েস, খরম, মোঁচা, ডুলঅইন, ফিক্কা, ধক্ক, খাইট্যা, দইজ্যা, কুরা, ফইডা, দোফইক্যা চুলা, আঁইচ, বইজ্যাল কের ইত্যাদি।

হাঁস মুরগির বাচ্চা কাক পক্ষি থেকে নিরাপদ রাখার জন্য উইরজ্যা (বাঁশের তৈরী খাঁচা) কিরকি (ঘরের জানালা) ডেইলা (ঘরের দেয়ালের বাইরে সংযুক্ত উঁচু অংশ) খঁইর (ফটক), ফুরঅইন (ঝাড়), ছিক্কা (রঁশিতে ঝুলানো হাঁড়ি পাতিল টাঙ্গিয়ে ব্যবস্থা) খরম (কাঠের তৈরী পাদুকা), হোঁরঅর বইট্যা (কোমরে বেঁধে দেয়া কালো সুতা), হঁও (সাঁকো), আইল্যা (মাটির তৈরী পাত্র), টেঁইট্যা (বাঁশ বেত চিড়ার সুবিধায় গাছের ডাল দিয়ে তৈরী করা জিনিষ), কুইজ্যা (শুকনা খড়ে গাদা), লুই (ছোট মাছ ধরার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরী ত্রিভুজ আকৃতির খাঁচা) ফইচ্যা (মাটিতে হাঁড়ি পাতিল বসানোর ব্যবস্থায় বেতের তৈরী চাক) কাদিরা (চেয়ার) বেসর (মহিলাদের নাকে নোলক), খিল (দরজা আটকানোর হুক), পঁইস (জুতা), পাডা ওতা (মরিচ ফিসার পাথর), দরতারখানা (খাবার জন্য বিছানো পাটির উপর দেয়া কাপড়), লোডা (বদনা), ডুলা (জালে আকনো মাছ রাখার ঝুড়ি), টেঁইয়াজাল (ছোট মাছ ধরার জন্য তৈরী করা ত্রিভুজ আকৃতির জাল), বজ্যাত(দুষ্ট), বরকি (বড়শি), পঅল (পানিতে মাছ চেপে রাখার জন্য বাঁশের তৈরী খাঁচা), কুরা(মোরগ মুরগি), নাখল, যুুয়াঁল (জমিতে হালচাষ দেয়ার সময় গরু কাঁধে বেঁধে দেয়া বাঁশের তৈরী যন্ত্র) আপটা/আখৌয়্যা (মই) টেঁয়া আরা(বাঁশ দিয়ে তৈরী বেড়া), ফইডা (ঘর থেকে নামার জন্য ব্যবহার করা কাঠের রদ্দা) ফিক্কা (ঠেস দেয়া) থুউক/ধক্ক (দোলনা), কালাইট্যা ( ঘরের ছাউনিতে ব্যবহার করা ছনের অব্যবহায্য পুরানো অংশ) দোপাইক্যা চুলা (দুই পাতিল বসানো যায় এমন চুলা), আঁইচ( ঘরের কার্নিচে) বইজ্যাল কের (শুকনা খড়)

LEAVE A REPLY