চৌধুরী শহীদ, চন্দনাইশ ।।

সপ্তাহব্যাপী একটানা ভারী বর্ষণ, কয়েক দফা বন্যা, শংখনদে পাহাড়ি ঢলের পলিমাটির কারণে চন্দনাইশ সাতকানিয়ায় অক্ষত নেই একটি সবজির ক্ষেতও। বিশেষ করে এ দু’টি উপজেলার ৮০ভাগ সবজির উৎপাদনস্থল শংখচরে পলিমাটির নীচে চাপা পড়ে হাজার হাজার একর জমির সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় সবজির উৎপাদনে চরমভাবে ধ্বংস নেমেছে। আর এ কারণে খুচরো বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে দুই তিনগুন। ফলে সবজির যারা ভোক্তা তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সরেজমিন সবজির খুচরো বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি ৪০ টাকার নীচে কোন সবজিই পাওয়া যাচ্ছেনা। মাত্র একমাস আগে ২০ টাকা কেজিতে যে কচুর লতি বিক্রি হয়েছিল তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। একইভাবে ৩০ টাকা দামের প্রতি কেজি বরবটি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, ২৫ টাকা দামের প্রতি কেজি বেগুন ৫০ টাকায়, ৩০ টাকা দামের প্রতি কেজি করলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, ২০ টাকা দামের প্রতি কেজি তিতকরলা ৪০ টাকায়, ৩০ টাকা দামের প্রতি কেজি পটল ৫০ টাকায়, ২০ টাকা দামের প্রতি কেজি কচু ৪০ টাকায়, ২০ টাকা দামের প্রতি কেজি শশা ৪০ টাকায়, ৬০ টাকা দামের প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায়, ৩০ টাকা দামের প্রতি কেজি ঝিঙ্গে ৬০ টাকায়, ২০ টাকা দামের প্রতি কেজি হাইব্রিড খিরা ৩৫ টাকায়, ৩০ টাকা দামের প্রতি কেজি ঢেড়স ৫০ টাকায়, ২৫ টাকা দামের প্রতি কেজি আলু ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরো বিক্রেতারা জানায় সবজির প্রধান পাইকারী বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন ময়দানে আগের তুলনায় তিনভাগের একভাগও সবজি আসছেনা। যা আসছে সেগুলোর চেয়ে ক্রেতার সংখ্যাই বেশী। একইভাবে অন্যান্য পাইকারী বাজারগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। দোহাজারী হাজারী বাজারে সবজি কিনতে আসা এনজিও কর্মী শাহিদা আকতার, স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, মফিজুর রহমানসহ আরো কয়েকজন জানিয়েছেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও এখনকার চেয়ে অর্ধেক মুল্যে সবজি কিনতে পেরেছিল। কিন্তু বন্যার কারণে বাজারে সবজি কম আসার অজুহাতে এখন তিনগুন বেশী দাম নিয়ে নিচ্ছে খুচরো বিক্রেতারা।

চন্দনাইশের দোহাজারী এলাকার সবজিচাষী, আবিদুর রহমান বাবুল, মোহাম্মদ সোলেমান, এম ফয়েজুর রহমান, সাতকানিয়ার উত্তর কালিয়াইশ এলাকার আবদুর রহমান, মোহাম্মদ নুরু, কালু মিয়াসহ অনেকেই সবজির খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চলতি বছরের জুন জুলাই দুইমাসে সৃষ্ট চার চারবারের বন্যা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সবজির ক্ষেত পানির নীচে নতুবা পলির নীচে তলিয়ে গেছে। এর বাইরে যেসব ক্ষেত এখনো অ ত আছে সেসব ক্ষেতে উৎপাদিত সবজি দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছেনা। আর সে কারণেই পাইকারী এবং খুচরো দুই বাজারেই সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সবজির উৎপাদকরা। অতিবিৃষ্টি, বন্যা, পাহাড়ি ঢলের কারণে অধিকাংশ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন মজুমদার বলেন, জমি পুনরায় তৈরি করে নতুনভাবে চাষ করার পর ক্ষেত থেকে সবজির ফলন বের করে আনতে আরো এক থেকে দেড়মাস সময় লাগতে পারে। আর এই সময়ে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকবে এবং দামও একটু বেশী থাকতে পারে বলেও মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY