চট্টগ্রামের ফয়’স লেকে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণ ও রিসোর্ট তৈরি করতে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের সাথে করা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। খবর বিডিনিউজের।

বৈঠকে জানানো হয়, ফয়’স লেকের ৩৩৬ দশমিক ৬২ একর জমি ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে নামমাত্র মূল্যে অসম চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করা ও প্রতিবছর রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ আর্থিক তির সম্মুখিন হওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিটির সদস্যরা ৫০ বছর মেয়াদী এ ‘অসম চুক্তির’ ব্যাপারে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে চুক্তিটি বাতিল এবং ফয়’স লেকে সরকারের জন্য লাভজনক প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে জানানো হয়, ফয়’স লেকের এই ইজারার ফলে রেলওয়ে প্রতিবছর ১ কোটি ৯৮ হাজার টাকার ভূমি উন্নয়ন কর দিচ্ছে। অথচ ইজারাকৃত প্রতিষ্ঠান বছরে মাত্র ৩৭ লাখ টাকা রেলওয়েকে দিচ্ছে। যার ফলে প্রতিবছর সরকারের ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ‘কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করে সুপারিশ করেছে। এখন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কনকর্ড ফয়’স লেক এলাকায় অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে। এছাড়া চুক্তির অনেক শর্তই ভঙ্গ করেছে তারা।’

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত মে মাসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পর্যটন করপোরেশন এবং কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কন্সট্রাকসনের সাথে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে চুক্তির শর্তের বাইরে ফয়’স লেকে যেসব কাজ করা হয়েছে সেগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া কি কি শর্ত ভঙ্গ হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের পানি সমস্যার সমাধানে ১৯২৪ সালে প্রায় ৩৩৬ একর জায়গায় কৃত্রিম এ হ্রদ খনন করেছিল আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । ২০০৫ সালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট। জলাধারে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও রেস্টুরেন্টের কারণে পানি দূষিত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ঢাকা সার্কুলার ট্রেন প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে এর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, মো. আলী আজগার, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মোহাম্মদ নোমান, ইয়াসিন আলী এবং ফাতেমা জোহরা রানী অংশ নেন।

LEAVE A REPLY