আজাদী প্রতিবেদন

জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ চট্টগ্রাম সফরে এসে এককভাবে আগামী নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়ে গেলেও কথাবার্তায় শীর্ষ নেতাদের মনে হয়েছে গতবারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মহাজোটের সাথে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবেন তিনি। গত ৭ আগস্ট একদিনের সফরে চট্টগ্রাম এসে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের সাথে আগামী নির্বাচনসহ দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। দলের কয়েকজন শীর্ষনেতার সাথে এই ব্যাপারে কথা হলে তারা জানান, আগামী নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা দিলেও মূলত গতবারের মতো মহাজোটের সাথে থেকেই নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা বেশি জাতীয় পার্টির।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানান নাটকীয় ঘটনার পর এরশাদের জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আসন ভাগাভাগির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন কোতোয়ালী থেকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং হাটহাজারী থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে দুইজনই জয়লাভ করেন। নগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহজাবিন মোরশেদকে পরপর দুইবার সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের পর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। অপরদিকে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাড়ে তিন বছরের মাথায় এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বিভিন্ন সময়ে মহাজোটের সমালোচনা করে আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩শ’ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষনা দেন।

চট্টগ্রামে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে আগামী নির্বাচন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে বলে জানান নেতারা । জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি আজাদীকে জানান, চট্টগ্রামের কোতোয়ালী এবং হাটহাজারী আসন আগের মতোই জাতীয় পার্টি রাখতে চাইবে। এছাড়া আরো আসনের ব্যাপারে আলাপআলোচনা হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছেন তিনি। নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকে পরিকল্পনা চলছে। গতবারের মতো আগামী নির্বাচন অত সহজ হবেনা। তাই প্রার্থী নির্বাচনে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে আমার প্রায়ই কথা হয়। আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক ব্যবস্থা আরো সুন্দরভাবে গোছানোর কথা বলেছেন চেয়ারম্যান । তিনি আজাদীকে জানান, পার্টি চেয়ারম্যান মহানগরীর সাংগঠনিক কর্মকান্ড দেখে খুবই সন্তুষ্ঠ। তিনি বলেছেন দলকে আরো সুসংগঠিত করতে। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া হবে বলে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন। তবে এই ব্যাপারে আরো পরে সিদ্ধান্ত হবে। হয়তো মহাজোটের সাথেও থাকতে পারেন। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্টি চেয়ারম্যানের পরামর্শ মতো আমরা নগরীর প্রতিটি থানায় কমিটি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে আমরা ১৪ থানায় কমিটি দেবো। তিনি বলেন, নগর জাতীয় পার্টি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির পাশাপাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা হবে। আমরা সেই উদ্যোগও নিচ্ছি। অনেকেই অনেক কথা বলবেওরা তো সাংগঠনিক লোক না।

কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ আজাদীকে জানান, নগর জাতীয় পার্টি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে চেয়ারম্যান স্যারের (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) সাথে আমার কথা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলেছেন, ‘তোমাকে নগর জাতীয় পার্টির দায়িত্ব নিতে হবেএদের দ্বারা হবেনা। কথাবার্তায় আমার মনে হয়েছে মহাজোটের সাথে থেকেই আগামী নির্বাচনে লড়বে জাতীয় পার্টি।’

নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এয়াকুব হোসেন আজাদীকে জানান, ‘পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে চান্দগাঁওবোয়ালখালী আসনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে কোতোয়ালী এবং হাটহাজারীর বাইরে আরো আসন চাইবে জোটের কাছ থেকে। তাই মনে হচ্ছে জোটভুক্ত থেকেই নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে জাতীয় পার্টির।

LEAVE A REPLY