কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের জেলা কারাগারে মনজুর শেখ নামের এক হাজতির মৃত্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কেউ বলছেন ডিবি পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছে। আবার কেউ বলছেন কারাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে দায়টা সবচেয়ে বেশি কারাগার কর্তৃপক্ষের এমনই মতামত আইনজীবীদের।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই রাতে টেকনাফকক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে গাড়ি তল্লাশি করার সময় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখান নগর এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম প্রকাশ মঞ্জুর শেখকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু কারাগারে প্রেরণের কয়েকদিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩ আগস্ট তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়। এরপর সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে ৫ আগস্ট ফের কারাগারে নেয়া হয়। পরদিন রাতে তিনি আবারো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবারো কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, মনজুর শেখ প্রথম দফা চিকিৎসায় সুস্থ হলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে যান। পরের দিন পুনরায় নিয়ে আসলে মনজুর শেখকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে। আরএমও আরো বলেন, মঞ্জুর শেখের লাশ ময়না তদন্তের পর পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে নিয়ে গেছেন।

মঞ্জুর শেখের ভগ্নিপতি মো. নিকসন জানান, সোমবার রাতে ময়না তদন্ত শেষে মন্‌জুর শেখের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তিনি ডিবি পুলিশের নির্যাতনে নাকি কারাগার কর্তৃপ ের অবহেলার কারণে মঞ্জুর শেখের মৃত্যু হয়েছে, তা সঠিক তদন্ত করে বের করার দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মঞ্জুর শেখের এক নিকট আত্নীয় জানান, কারাগার কর্তৃপক্ষ সঠিক চিকিৎসা না দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে যদি মন্‌জুর শেখের মৃত্যু হতো তাহলে ৬দিন পর কীভাবে মারা গেলো? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আরো জানান, মন্‌জুর শেখকে আটকের পর কারাগারে ৬দিন পর মারা গেলে সেই দায়ভার কি করে আমরা নেবো? উল্টো প্রশ্ন রাখেন তিনি।এদিকে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহি উদ্দিন আহমদ জানান, ‘মন্‌জুর শেখ একজন চিহ্নিত মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে উপজেলার মালখান নগর এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ও সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য। গত এক সপ্তাহ আগে আমি জানতে পারি যে মন্‌জুর শেখ ইয়াবার চালান নিয়ে আসার পথে কক্সবাজার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে কারাগারে তার মৃত্যু হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘কারাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমার ধারণা। তবে যাই হোক না কেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমের মন্‌জুর শেখের মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY