ভারতের এক দম্পতি এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার যে দাবি জানিয়েছিলেন তা তদন্ত করে কর্মকর্তারা দেখেছেন এটি ভুয়া তথ্য। আর এ কারণেই ওই পুলিশ দম্পতিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দিনেশ ও তারাকেশ্বরী রাঠোর গত বছর দাবি করেছিলেন,তারা আট হাজার আটশো পঞ্চাশ মিটার উঁচু এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে উঠতে পেরেছেন। তবে পরে তাদের সেই চূড়ায় ওঠার ছবি ভুয়া বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়।

মহারাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছেন, এই দম্পতি পর্বতের চূড়ায় আরোহণ না করেই ছবি রূপান্তরের মাধ্যমে তাদের সফলতার দাবি করেছিলেন। অতিরিক্ত কমিশনার সাহেবরাও পাতিল পিটিআই নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, এই পুলিশ দম্পতি ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করেছে’ এবং ‘মহারাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের সুনাম নষ্ট করেছে’। আর সে কারণেই তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এই পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হবে কিনা সে বিষয়টা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে পর্বত চূড়ায় ওঠা নিয়ে ভুয়া তথ্য দেবার কারণে নেপালের কর্তৃপক্ষও এই দম্পতিকে দশ বছরের জন্য নেপালে পর্বতারোহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ দম্পতি প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে ‘তাদের ছবিগুলো বাস্তব, সেখানে কোনো ফাঁকফোঁকর নেই।’ কিন্তু ব্যাঙ্গালোরের এক পর্বতারোহী সত্যরূপ সিধান্থা পরে মিডিয়ার কাছে দাবি করেন, রাঠোর দম্পতি এভারেস্টে চূড়ায় ওঠার প্রমাণ হিসেবে যে ছবিগুলো দেখাচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই তাঁর ছবি।

নেপালের অর্থনীতির একটা বড় উৎস এই পর্বতারোহণ। তবে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরে এভারেস্টে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহীর সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। মূলত এপ্রিলমে মাসেই শত শত পর্বতারোহী নেপালে পাড়ি জমায় এভারেস্টে উঠার লক্ষ্যে। গত বছর এভারেস্টে উঠেছে সাড়ে চারশ’র মতো মানুষ এর মধ্যে আড়াইশ’র বেশি বিদেশি নাগরিক। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ না করেই অনেক পর্বতারোহী এ নিয়ে মিথ্যাচার করেন এমন অভিযোগ মাঝেমধ্যেই শোনা যায়।

LEAVE A REPLY