চবি প্রতিনিধি
চবিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ানো হচ্ছে ‘বৈশ্বিক পরিবেশ রাজনীতি’ নামে একটি কোর্স। ওই কোর্সে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতনসহ আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন বিষয়ে পড়ান শিক্ষক ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন। আর শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করানো হয়। গত সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে বিভিন্ন প্রকার গাছ-গাছালি আনার হিড়িক পড়ে যায়। বিভাগের সভাপতি ড. কামাল ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আনা গাছের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। আনন্দ উদ্দীপনা ছিল বিভাগজুড়ে। এ সময় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, ‘তৃতীয় বর্ষের একটি কোর্সের নাম ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল পলিটিক্স’ (বৈশ্বিক পরিবেশ রাজনীতি)। এই কোর্সে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের পরিবেশ রাজনীতি নিয়ে পড়াশুনা করে। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রাজনীতি বড় ব্যাপার; যা গত দুই যুগ আগেও নাথিং ছিল। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠদানের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবেশ বিষয়ে পড়াশুনা করে সচেতন হওয়াই পাঠদানের মূল উদ্দেশ্য।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগের বয়স মাত্র এক যুগ। শিক্ষক সংকট, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটসহ নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে দ্রুত সেশনজট মুক্ত বিভাগের মুকুট অর্জন করে নিয়েছে বিভাগটি। শুধু সেশনজট নয়, বিভাগের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহীকরণে রয়েছে শিক্ষকদের নানা উদ্যোগ। বিভাগকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীরাই হাতে তুলে নেন ঝাড়ু। বিভাগের পরিচ্ছন্নতার কাজটি বেশিরভাগ সময় করেন শিক্ষার্থীরা; যার নেতৃত্বে থাকেন বিভাগের শিক্ষকরাই।
ড. কামাল মনে করেন, একটি বিভাগকে এগিয়ে নিতে বেশিকিছুর প্রয়োজন নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্তরিক হলে সব সম্ভব। এই বিভাগের শিক্ষকগণ অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের বিভাগের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটি শিক্ষার্থীরাই করে থাকেন। বিভাগের শিক্ষকরাও প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দেশের পরিবেশ সচেতনতায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এই শিক্ষক।
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফ মুস্তাজিব বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিবেশ রাজনীতি কোর্সটিতে স্যার পড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। ছোট ছোট কিছু বিষয় রয়েছে, যা আমরাদের অসচেতনতার ফলে করে থাকি। কিন্তু তা পরিবেশের জন্য অনেক তিকর। ওই কোর্সের পরিবেশ রাজনীতির পাশাপাশি সচেতনতার প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন স্বাভাবিক সময় ছাত্ররা আবাসিক হলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ অপচয় করে থাকে। কিন্তু তারা জানে না সামান্য এই অসচেতনতা পরিবেশের জন্য কতটা তিকর। স্যার এসব বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা করেন ক্লাসে।’
একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অর্পিতা মহাজন বলেন, ‘স্যার আমাদের টিউটোরিয়ালের পাশাপাশি গাছ লাগালেও মার্কস দেয়ার কথা বলেছেন। আমাদের ব্যাচের প্রায় ৮০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিজ অর্থায়নে গাছ এনে বিভাগে হস্তান্তর করেছেন। এর বেশিরভাগই টবে রাখার মত গাছ। বিভাগে টবে এসব গাছ লাগিয়ে পুরো বিভাগকে সবুজে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য।’

LEAVE A REPLY