মনিরুল মনির
নগরীর জামাল খান রোড, নৈসর্গিক এই সড়কের এক প্রান্তে ডা. এম এ হাসেম চত্বর। সামনে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা স্কুল। শিক্ষা, সমাজসেবা ও সংগ্রামে যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এই নামকরণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
ডা. এম এ হাসেম। মোহাম্মদ মিয়া ওরফে আবুল হাসেম। বাঙালি মনীষা। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নিবিষ্ট, প্রগতিশীল রাজনীতি-সংস্কৃতির প্রাণ, সমাজ সংগঠক, সেবক উদারচেতা, জ্ঞান পিপাসু, কৃতী ও সংগ্রামী মানুষ। তিনি কিংবদন্তীর শহরের কিংবদন্তী। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। তিনি প্রাতিষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে ওঠা একজন ব্রতী, প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন মুসলমান চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম। যে মুহূর্তে পুরো ভারতবর্ষে মুসলমানরা পড়াশোনায় অনীহা এবং পিছিয়ে পড়ছিলো, তখন তিনি অগ্রগামী। পূর্ব বাংলার তৎকালীন চট্টগ্রামের মুসলিম ডাক্তারদের মধ্যে প্রথম সময়কালের চিকিৎসক। উনিশ শ’ তেইশ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলকাতা বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবি পাস করেন।
১১ আগস্ট ১৯৮৩ সালে দৈনিক আজাদীর উপ-সম্পাদকীয়তে উল্লেখ ছিল, ‘রাউজান থানার সুলতানপুর গ্রামের এক বুনিয়াদী পরিবারে মৌলবী মফজ্জল আলীর ঔরসে ও বদিউন্নেসার গর্ভে ১৮৯৪ সালের এ শুভলগ্নে যে শিশুর জন্ম হয় পরবর্তীকালে সে শিশু যে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে সেদিন কেউ ধারণা করতে পারেনি।
মোহাম্মদ আবুল হাসেম তাঁর বাড়ির নিকটস্থ অধুনালুপ্ত ভিক্টোরিয়া প্রাইমারি স্কুলে (রজনী মাস্টারের স্কুল নামে পরিচিত) লেখাপড়া শুরু করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা এবং সাত বছর বয়সে পিতৃহারা হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি রাউজান আরআরএসি ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন এবং ১৯১৩ সালে ১৫ টাকা বৃত্তি পেয়ে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাস করেন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৫ টাকা বৃত্তি নিয়ে ১৯১৫ সালে আইএসসি পাস করেন, এরপর ডাক্তারি পড়ার জন্য কলকাতা যান, আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য তাঁকে দুবছর চাকরি করতে হয়। ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে তিনি এম বি পাস করেন। তৎকালীন পূর্ব বাংলা তিনি প্রথম এম বি ডাক্তার।
ডাক্তারি পাস করার পর বার্মা বসবাসরত আত্মীয়বর্গের চাপে ডাক্তার হাসেম সাহেবকে বার্মায় যেতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চ ডিগ্রি প্রাপ্ত ডাক্তার হাসেমের জন্য অর্থ ও যশ লাভের সব দুয়ার খোলা থাকা সত্ত্বেও মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রাণকে কখনো প্রলুব্ধ করতে পারেনি, তাই বার্মার জৌলুস তাকে ধরে রাখতে পারেনি। মাতৃভূমির আকর্ষণে তিনি ১৯২৯ সালে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন।
তখন চট্টগ্রামের বিপ্লবী রূপ। বৃটিশের নাগপাশ ছিন্ন করে দেশকে স্বাধীন করার জন্য চট্টগ্রামের মুক্তি পিয়াসী যুবকগণ সশস্ত্র সংগ্রামের উত্তেজনায় মৃত্যুপাগল, যুবক ডাক্তার হাসেমের রক্তও টগবগ করে উঠল। স্বাধীনতার সংগ্রামে সেই যে তাঁর দীক্ষা, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সেই পথ থেকে চ্যুত হননি।
উদারপ্রাণ, মুক্ত চিন্তা ও নির্লোভ মনের অধিকারী ডা. হাসেম বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে চিহ্নিত না করে প্রগতিশীল সমস্ত শক্তিকে অর্থ দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে সহায়তা করেছেন। যেখানে কল্যাণের কাজ, যেখানে সেবার কাজ সেখানেই ডাক্তার হাসেম অকুণ্ঠ চিত্তে, বিনা দ্বিধায় এগিয়ে গেছেন।
বার্মা জীবনেরও তিনি নিজকে দূরে রাখেননি। অশিক্ষাই সকল সমস্যার মূল-এই উপলব্ধি তাঁকে নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সংগ্রামী করে তোলে। তিনি বার্মার নাইট স্কুল, এডুকেশন সোসাইটি, চট্টগ্রাম সমিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে বাঙালি মুসলমানদের প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করে তিনি বেঙ্গল বার্মা স্টিম কোম্পানি গঠনে অপরিসীম সহায়তা দান করেন। মহাত্মা গান্ধীর রেঙ্গুন সফরকালে প্রবাসী বাঙালিদের পক্ষে তিনি মানপত্র পাঠ করেন। চট্টগ্রাম ইয়থ এসোসিয়েশনের সম্পাদক হিসেবে চট্টগ্রাম যুব সম্প্রদায়কে জনসেবা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে তোলার কাজে তাঁর দান অপরিসীম।
কদম মোবারক এতিমখানা, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি, চট্টগ্রাম নাইট কলেজ (পরবর্তী কালে সিটি কলেজ), মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি স্কুল আজও তাঁর সেবা কর্মের অমর সাক্ষ্য বহন করছে। চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের সেক্রেটারি, স্টেট মেডিকেল ফেকাল্টির সদস্য, রেডক্রস সোসাইটির সদস্য হিসাবে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা অম্লান হয়ে আছে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় উদ্বাস্তু মানুষের কাফেলা, এতিম শিশুর আহাজারি, অসহায় নাগরিকদের উদ্বেগ, রোগ জর্জরিত মানুষের আর্তনাদ, নির্যাতিত মানুষের ফরিয়াদ তাঁকে বিচলিত করে তুলেছিল। তাইতো তিনি বার্মা ইভাকুই কমিটির সেক্রেটারি, সরকারিভাবে পরিচালিত একমাত্র শিশু হাসপাতালের (রহমতগঞ্জ) সহ-সভাপতি ও অবৈতনিক প্রধান চিকিৎসক, জিলা জনরক্ষা সমিতির সভাপতি ও জিলা রিলিফ কমিটির সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে যে দায়িত্ব পালন করেছেন সমাজ সেবার ইতিহাসে তা বিরল।
ডাক্তার সাহেবের চেম্বার ছিল যে এক পূর্ণ তীর্থ। সকল রাজনৈতিক দল, সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নেতা ও কর্মীদের ছিল সেটা মিলন কেন্দ্র। হাসিমুখে চলত আলোচনা, সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক। তাঁর সাহায্য সহানুভূতি লাভ করেনি এমন কোন দল বা প্রতিষ্ঠান তখন ছিল না।
আর ভীড় হতো পীড়িত দরিদ্র মানুষের। বিনামূল্যে তারা কেবল ব্যবস্থাপত্রই পেতনা, ওষুধ ও পথ্যের টাকাও পেতো। শিক্ষার্থীর জন্য তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। তাঁর দান ও সাহায্যে অনেকই শিক্ষিত হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।
ডাক্তার সাহেবের মধ্যে সেই বিরল, মহৎ গুণের সমাবেশ ছিল। তাই তিনি ছিলেন অজাতশত্রু। সদা হাস্যময় বিনয়ী লোকটি কাউকে কটু বাক্য বলেছেন এমন কথা কেউ শুনেনি। এমনই যে কৃতী পুরুষ তিনি ছিলেন প্রচার ভীরু। সব কিছুর কাণ্ডারী হয়েও তিনি নিজকে নেপথ্যে রাখতেন। তাঁর ত্যাগ, তাঁর সংযম, তাঁর নিঃস্বার্থপরতা এযুগে বিরল। তাঁর প্রেমময় জীবন চট্টগ্রামবাসীর নিকট আজও প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।’
অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের ভাষ্য থেকে জানতে পারি, ‘ডা. হাসেমের মতো সমাজ সংস্কারক ও সেবকের আদর্শ সমাজে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি বলে সামগ্রিক ভাবে জাতি অবক্ষয়ের শিকার ও দুর্নীতিতে পীড়িত হয়েছে এবং মানবিক গুণাবলী হারাতে বসেছে। ডা. হাসেম নিঃস্বার্থ এবং নিরলস ভাবে গরীব, ধনী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিরল গুণাবলীর অধিকারী, যে জন্য চট্টগ্রামের সকল স্তরের জনগণ তাঁর কাছে ঋণী।’
মোহাম্মদ খালেদ এক লেখায় বলেন, ‘শিশু, কিশোর, তরুণ বয়সে মানুষ ঘনিষ্ঠজনদের, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের, শিক্ষকদের অনুকরণ করে যার প্রভাব পরবর্তী সময়ে জীবনের উপর থেকে যায়। আমাদের বংশে ডা. এম এ হাসেম ছিলেন আদর্শ পুরুষ। তাঁকে নিয়ে আমাদের গৌরব আছে, অহংকার আছে। এমন পুণ্যাত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ বিরল।
জ্ঞানে-গুণে, চিত্তে-বিত্তে পরিপূর্ণ এই মানুষটি আমাদের বিনয়ী হতে, নির্লোভ থাকতে, মানুষকে ভালবাসতে, সৎ চিন্তা ও সৎ কাজ দিয়ে সমাজে শান্তি রাখতে, সেবা ও কল্যাণ কাজে ব্রতী হতে, জুলুম ও জালেমের প্রতিবাদ করতে শিখিয়ে গেছেন। মন-মানসিকতায়, আচার-আচরণে, কাজে-কর্মে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। তাপস ডা. হাসেম পরিপূর্ণ মানুষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
ঊনিশ শ’ একত্রিশ সালে দাঙ্গা হয় চট্টগ্রাম শহরে। যা ‘চট্টগ্রাম হাঙ্গামা’ নামে পরিচিত। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইন্ধনে এসব ঘটেছিল তা ‘সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি’র রিপোর্টে প্রকাশিত হয়। কলকাতায় টাউন হলে যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত বলেন : ‘চট্টগ্রামবাসী প্রতিশোধ নেবে। এ-পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে ইংরেজ রাজপুরুষদের বাধ্য করবে, নিপীড়িত দেশবাসী। সমুচিত শাস্তি দেবে, চট্টগ্রামের যুবশক্তি।’ হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা থামানোর চেষ্টা। ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগে তখনকার রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে ডা. হাসেম শান্তি মিছিলে অংশ নেন। কবিয়াল রমেশ শীল সম্প্রীতির গান গেয়ে নতুন জাগরণ তৈরি করেন।
এর কিছুদিন পর ডা. ওমর ও ডা. হাসেম মিলে ‘নিউ ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর একটি প্রেস, সেখান থেকে বের হতো ‘সত্যবার্তা’ পত্রিকাটি। এভাবে ড. হাসেম সমাজকর্মের অংশ হিসেবে নিজের মননশীল চিন্তার বিকাশ ঘটান। ওহীদুল আলমের ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস’ এ পড়ি : ‘ডা. ওমরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঠিকই ছিলো। তিনি চট্টগ্রাম শহরে সার্থকভাবে তার ডাক্তারি প্রসার গড়ে তোলেন ও সঙ্গে সঙ্গে ‘নিউ ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংকেরও পত্তন করেন। সুস্থ মস্তিষ্কে ডা. ওমর প্রথম চোটেই পত্রিকা প্রকাশে ঝাঁপিয়ে পড়েননি। ব্যাংকের পরে তিনি প্রেস পত্তন করার স্বপ্ন দেখেন। এ সময় তার সহযোগী ছিলেন ডা. মোহাম্মদ হাসেম ও মিরসরাই থানার ডা. মোজাহেরুল হক। ১৯৩২-৩৪ খৃ. মধ্যেই বর্তমানের একই স্থানে ‘মডার্ন প্রিন্টিং কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই সাপ্তাহিক ‘সত্যবার্তা’ প্রকাশ শুরু হয়।’ ধারণা করা হয় এটি চট্টগ্রামের প্রথম ছাপাখানা। এখান থেকে স্বাধীনতার দৃঢ়তা আরো অটুট হতে থাকে।
এছাড়াও তিনি উনিশ শ’ ষাট সালে দৈনিক আজাদী প্রকাশের সময় ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের পাশে এসে দাঁড়ান শুভার্থী হিসেবে।
উনিশ শ’ ঊনচল্লিশ সাল। মরণের ছায়ায় ছায়ায় যুদ্ধের বিভীষিকা। মানুষের ছুটোছুটি। বিপ্লবীদের ধর-পাকড় চলছে। কোথায়, কে সাহায্য করবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, শোষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি। সব সংশয় এসে দুয়ারে দুয়ারে কড়া নাড়ছে। সারা বাংলায় দুর্ভিক্ষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এসময় সাহায্যের জন্য রাজনৈতিক কর্মীরা এগিয়ে এসেছে। শুরু হলো লঙ্গরখানা।
উনিশ শ’ চল্লিশ সালে প্রাথমিক সেবার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেন। রহমতগঞ্জ জোগেশ সিংহের বাসায় অন্যটি মিউনিসিপ্যাল স্কুলের উল্টোদিকে রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে (বর্তমান জলসা সিনেমা সংলগ্ন স্থানে) একটি পুরানো দালানে। দালানটি এখন আর নেই। এই কাজে ডাক্তার হাসেমের সাথে ছিলেন ডা. কৃষ্ণপ্রসাদ ঘোষ, রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী, খান বাহাদুর ফরিদ আহমদ চৌধুরী, পুর্ণেন্দু দস্তিদার, কমরেড আবদুস সাত্তার, কল্পতরু সেনগুপ্তসহ অনেকে।
একই সময়ে বেবিজ হাসপাতাল নামে একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেন। যুদ্ধের মহামারিতে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুদের নিয়ে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত করেন। এতে ডা. হাসেম অবৈতনিক চিকিৎসক এবং হাসপাতালের সহ-সভাপতি। এতে করে অসহায় কিছু শিশু প্রাণে বেঁচে যায়।
কিছুদিন পর, উনিশ শ’ আটষট্টি-ঊনসত্তর সালে চলছে গণ আন্দোলন। এই সময় ডা. এম এ হাসেম অসুস্থ হয়ে পড়েন। এগার আগস্ট উনিশ শ’ সত্তর সালে ডা. এম এ হাসেম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক সইতে না পারা মানুষজন স্মৃতিতে কাতরাতে থাকেন।
ডা. এম এ হাসেমের উদার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানব কল্যাণের প্রতিকৃতি আমাদের কাছে নানাভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তাঁর বিচিত্র কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। এই সময়ে দেশভাগ আন্দোলন, বিপিসি রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলনে, তদানীন্তন সরকারের শিক্ষা সংকোচন বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি পরোক্ষভাবে সকলের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক সাহায্য, বিভিন্ন সময়ে সরকারের গণ বিরোধী আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে তিনি সকলকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগাতেন, তাঁর কাছে কিছু সংখ্যক কর্মী চিহ্নিত ছিলেন যাঁদের তিনি যে কোনরকম সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানে দ্বিধাবোধ করতেন না।
মানবেতর জীবনের জন্য চাই একজন মানবিক মানুষের। তেমনটিই ছিলেন ডাক্তার এম এ হাসেম। পৃথিবীতে এধরনের মানবহিতৈষী মানুষ খুব কম আসেন। ডা. এম এ হাসেমের বেড়ে উঠারণ্ড জীবনকে উপলব্ধি করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার যে প্রেরণা তাঁর মাঝে দেখা গেছে, তা আজো মানুষ ভুলেনি এবং ভুলতেও পারবে না। এ অমর আলোকের মানুষ শুভ্র-সত্য-সুন্দরের পাঠ রেখে গেছেন। যা শিক্ষানবিশদের জন্য পাঠ্য হতে পারে। তার জীবন পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হতে পারে। তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য ছিলেন আস্থা-বিশ্বাস-ভরসা।

LEAVE A REPLY