হৃদয় হাসান বাবু

শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে/ অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণেই ঝরায়ে/ আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে…শুরুতেই এমন পাগল করা গান গীটারের তারে মুগ্ধ করা সুরে উপস্থিত দর্শকদের আন্দোলিত করে তোলেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, কাউছার আহমেদ তসলিম। কৃত্তিকা আলো ছড়াবেই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে ও সৃজনশীল স্বাধীন সাংস্কৃতিক একডেমির সহযোগীতায় গত ২১ জলাই চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ষার সাহিত্য আড্ডা-গান আর আবৃত্তির অনুষ্ঠান বিকেল ৬ ঘটিকায় শুরু হয়। কৃত্তিকা চট্টগ্রাম শাখার সমন্বয়ক সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু সংক্ষিপ্ত কথামালায় কৃত্তিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এর পর পরই বর্ষা নিয়ে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করতে মঞ্চে আসেন কবি মীর নাজমিন। দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের সুর তোলেন আবৃত্তিকার ও সংগীত শিল্পী প্রিয়াংকা বিশ্বাস চৌধুরী, অভিনেতা ও সংগীত শিল্পী এ.বি.বাকি নোবেল। বর্ষিয়ান কবি জাহানারা মাহবুবের রবীন্দ্র সংগীতের সুরের মূর্ছনায় উপস্থিত সবাই তুমূল করতালিতে ফেটে পড়েন। এবার কিছু কথামালা নিয়ে আসেন সমীকরণ থিয়েটারের দলীয় প্রধান, অভিনেতা আলোক মাহমুদ। তিনি মঞ্চ নাটকে তার লেখা একটি গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে প্রাণের ঋতু বর্ষার নানারকম মোহনীয় দিকগুলো তুলে ধরেন গল্পকার সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু। রিম ঝিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজেয়ে দিবো তোমার মন, বৃষ্টি কেলী, রঙধনুময় বৃষ্টি, বৃষ্টির সীমানা, বৃষ্টিতে ছাতা মিছিল, পানিবল খেলা, খেক শিয়ালের বিয়ে, ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া, জানালায় বসে অতীত প্রিয় মুহূর্তগুলি চারণে মন হারানো মুগ্ধকরা টুকরো টুকরো কথায় যেন তিনি মাতিয়ে রাখেন। আবার অনুষ্ঠানের প্রাণ গানে ফিরে যাওয়া। পুরনো দিনের গান নিয়ে মাতিয়ে রাখেন ডিম্‌পি চৌধুরী, শরীফ ও মীর নাজমিন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জনপ্রিয় গান “মধু কই কই বিষ খাবাইলা/ কোন কারণে ভালোবাসার দাম ন দিলা” গানটি গেয়ে ভালোবাসায় সিক্ত হন ডিম্‌পি চৌধুরী। প্যারোাডি গান নিয়ে সবার মধ্যে হাসির খোরাক যোগান সিলেটের সন্তান রিপন। নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন কবি রমেশ চন্দ্র সানা। গান হয়েছে, আবৃত্তি হয়েছে, কথামালাও হয়েছে এতকিছুর মাঝেও মনে হচ্ছিল কি যেন হয়নি হয়নি। কবিতার মা যাকে বলা হয় সেই আদি ছন্দ ছড়া হবেনা তা কি হয়? ঐ দেখা যায় তাল গাছ ঐ আমাদের গাঁ/ ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছাঁ…চমৎকার অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে ছড়াটি শুনিয়ে সবার বাহবা কুড়ায় ছোট্ট বন্ধু মাইসা। ইংলিশ গান ইঁট্‌স মাই লাইফ পরিবেশন করে জোনায়েদ রাসেল। মীর নাজমিনের নজরুল সংগীত পরিবেশনের সময় যেন পিন পতন নীরবতা বিরাজ করছিলো। পরে একে একে আরো কিছু গান ও আবৃত্তি পরিবেশ করেন কাউছার আহমেদ তসলিম, ময়না, সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু, শরীফ, প্রিয়াংকা প্রমূখ। জেনায়েদ রাসেল গীটারের মূর্ছনায় কিছু সময় সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।

LEAVE A REPLY