আজাদী প্রতিবেদন

লাইটারেজ জাহাজের জন্য পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দেশের রড শিল্প কাঁচামাল নিয়ে বিপাকে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভয়াবহ রকমের জাহাজ জট এবং লাইটারেজ জাহাজ থেকে স্ক্র্যাপ খালাসের জন্য পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় এই সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। লাইটারেজ জাহাজের জেটি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রড তৈরির বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ লাইটারেজ জাহাজ থেকে খালাসের ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দেশের রড তৈরির কারখানাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্ক্র্যাপ ব্যবহার করা হয়। জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে স্ক্র্যাপ বাংলাদেশে আসে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এসব স্ত্র্যাপ খালাস করা হয়। বিদেশ থেকে আসা ৪৫/৫০ হাজার টন স্ক্র্যাপবাহী মাদার ভ্যাসেল সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজে কিছু স্ক্র্যাপ খালাস করে জাহাজকে বন্দরের ভেতরে নিয়ে আসা হয়। গত বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ রকমের জট চলছে। আউটারে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজকে দিনের পর দিন অপে া করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য জরুরি ভিত্তিতে লাইটারেজ জাহাজে স্ক্র্যাপ খালাস করা হয়। কিন্তু লাইটারেজ জাহাজ থেকে স্ক্র্যাপ খালাস ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলো কাঁচামাল সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। সদরঘাট লাইটারেজ জেটিতে স্ক্র্যাপ খালাসের বিশেষ নির্দেশনা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করে স্ক্র্যাপ আমদানির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের সদরঘাট লাইটারেজ জেটি দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে গ্রেট বেঙ্গল নামের একটি কোম্পানি এই জেটি অপারেট করে। বন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সদরঘাট লাইটারেজ জেটিকে স্ক্র্যাপ খালাসের জন্য নির্দিষ্ট করে দিলে বিশেষ সুফল মিলবে উলেহ্মখ করে তারা বলেছেন, সদরঘাট জেটিতে একই সাথে দুইটি লাইটারেজ জাহাজ বার্থিং দেয়া যায়। একই সাথে দুইটি স্ক্র্যাপবাহী জাহাজ বার্থিং দেয়া হলে অত্যন্ত দ্রুত এই সংকটের সুরাহা হবে। একই সাথে দুইটি স্ক্র্যাপবাহী জাহাজ দেয়া না হলেও যদি একটি স্ক্র্যাপবাহী এবং একটি ক্লিংকারবাহী জাহাজ বার্থিং দেয়া হয় তাতেও পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে। সদরঘাট লাইটারেজ জেটিতে জাহাজ বরাদ্দে অনিয়মেরও অভিযোগ করা হয়। এব্যাপারে গতকাল গ্রেট বেঙ্গলের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সদরঘাট লাইটারেজ জেটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এখানে বন্দর কর্তৃপক্ষের তেমন কিছু করার নেই। তবুও দেশের শিল্প কারখানার স্বার্থে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনে বন্দর কর্তৃপ অবশ্যই হস্তক্ষেপ করবে।

LEAVE A REPLY