ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাডমিন্টনে চট্টগ্রামের সোনালী যুগ যেন আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। আর এই সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সিবগাতরাকিবরা। কিশোর ব্যাডমিন্টনে এখন দেশ সেরা সৈয়দ সিবগাত উল্লাহ। আর এই কিশোরের হাত ধরে আবার সোনলী যুগে ফিরবে চট্টগ্রামের ব্যাডমিন্টন তেমন আশা ব্যাডমিন্টনপ্রেমীদের। এখনো দাড়িগোফ গজায়নি সিবগাতের। কিন্তু খেলার ধরন স্টেমিনা সবকিছু নজর কেড়েছে ব্যাডমিন্টন প্রেমীদের। আর এই চলার পথে সিবগাত সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে আরেক কিশোর আকিবকে। এবারের জাতীয় জুনিয়র এবং সাব জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ডাবল ক্রাউন জিতেছে সিবগাত। এককে সিলেটের মঙ্গলকে দাড়াতেই দেয়নি সিবগাত। মাসল ইনজুরি নিয়েও দুর্দান্ত খেলেছে সিবগাত। আর ডাবলসে আকিবকে সঙ্গী করে হারিয়েছে সিলেটের মঙ্গল আর গৌরব জুটিকে। এই দুইজনের হাত ধরে আবার আলোর পথে এগিয়ে যাবে তেমনটি ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় জুনিয়র এবং সাব জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার গত আসরেও ডাবল ক্রাউন জেতার সুযোগ ছিল সিবগাতের। কিন্তু সেবার এককে চ্যাম্পিয়ন হলেও দ্বৈতে হেরে যায়। তবে সেবারের না পাওয়ার হতাশা এবার আর ঝেকে বসতে দেয়নি সিবগাত। এবার ঠিকই ডাবল ক্রাউন জিতে নিয়েছে এই কিশোর। শুধু তাই নয় জাতীয় স্কুল ব্যাডমিন্টনের এককে তিনবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সিবগাত। আর দ্বৈতে দুইবার জিতেছে এই শিরোপা।

সিবগাতের পরিবারটা একেবারে একটি পরিপূর্ণ ক্রীড়া পরিবার। তার বড় দুই বোন আন্তর্জাতিক শ্যুটার। বড় ভাই সাজ্জাদ ছিলেন জাতীয় দলের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। আর ছোটভাই সৈয়দ সিফাত উল্লাহও এরই মধ্যে ব্যাডমিন্টনে হাতেখড়ি নিয়ে ফেলেছে। তার মধ্যেও বিরল প্রতিভা দেখছেন কোচরা। কাজেই এমন একটি ক্রীড়া পরিবারের সন্তান হিসেবে সিবগাত র‌্যাকেট হাতে চট্টগ্রামের সম্মান উজ্জ্বল করবে সেটা একেবারে পানির মত পরিষ্কার। কিশোর ব্যাডমিন্টনে দেশ সেরা সিবগাতের লক্ষ্য সিনিয়র পর্যায়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা। তার বাবা চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ অফিসার সৈয়দ সরোয়ার আলম জানালেন তিনি তার সন্তানদের দেশের সেরা সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন আমার সন্তানরা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনুক সেটাই আমার একমাত্র কাম্য। সিবগাতের কোচ নিখিল ধর আর মোরশেদ খানও চান তাদের শীষ্য যেন দেশের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়ড় হিসেবে দেশ জাতির মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। আর তার মধ্যে সে যোগ্যতা এবং প্রতিভা রয়েছে বলেও জানান কোচরা। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ট্রফি জেতা এবারই প্রথম নয় সিবগাতের জন্য। তবে যাকে সিবগাত পার্টনার হিসেবে পেয়েছে সেই আকিবের জন্য দেশ সেরা হওয়াটা প্রথম অভিজ্ঞতা। তাইতো তার এই অর্জনে দারুণ খুশি এই কিশোর। তারও লক্ষ্য দেশ সেরা হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছেলে আকিব পড়ছে জেএমসেন স্কুলে। সিবগাতের মত পার্টনার পেয়ে খুবই আনন্দিত আকিব। তাকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় এই কিশোর সামনের দিকে।

একটা সময় ছিল চট্টগ্রাম থেকে অনেকেই র‌্যাকেট হাতে দেশের সেরা হয়েছেন। তাদের দেখানো পথ ধরে এই দুই কিশোর সিবগাত এবং আকিব হাটতে চান সেরা হওয়ার দিকে। এ জন্য তাদের সঠিক পরিচর্যার দরকার বলে মত দেন তাদের কোচরা। পরিচর্যা পেলে এই দুই কিশোর দেশের জন্য বড় সম্পদ হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। এই দুই কিশোরের পাশাপাশি দ্যুতি ছড়িয়েছে চট্টগ্রামের দুই কিশোরী ফারজানা এবং তিশি । এই দুই কিশোরী অনূর্ধ্ব১৫ বালিকা দ্বৈতের শিরোপা জিতেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সিলেটের জেরিনস্বর্না জুটি। প্রথম সেটটা ২১১৬ পয়েন্টে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটটি ২১১২ পয়েন্টে জিতে নিয়ে শিরোপাও জিতে নেয় চট্টগ্রামের এই দুই কিশোরি। তাদেরকে ঘিরেও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ব্যাডমিন্টন প্রেমীরা। এদের নিয়েও দারুণ আশা কোচদের। তবে অনুর্ধ্ব১৫ বালিকা একক বিভাগে চট্টগ্রামের ফারজানা পেরে উঠেনি সিলেটের জেরিনের সাথে। এই ইভেন্টে হেরে গেলেও দারুণ লড়াই করেছে চট্টগ্রামের ফারজানা। তবে এই চার কিশোর কিশোরী দিয়ে রাখল ভবিষ্যতের বার্তা। এদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারে চট্টগ্রামবাসী। এদের উপর ভরসা রাখাই যায়। কারণ এরাই আগামী দিনের তারকা। আশার বাতি ঘর।

LEAVE A REPLY