মীরসরাই প্রতিনিধি

দেশের কয়েকটি স্থলবন্দরের সাথে রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়নসহ আট প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ সময় রামগড় স্থলবন্দরসহ কয়েকটি স্থলবন্দরের জন্য অনুমোদিত হয় ৬৯৩ কোটি টাকা। ফলে রামগড় স্থলবন্দরে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাণিজ্য আরো বাড়বে।

গত ১ আগস্ট রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, নির্মাণাধীন স্থলবন্দর এলাকায় ইতোমধ্যে ভারত সরকারের অর্থায়নে এপ্রোচ রোড ও ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। বর্ষা থামলেই শুরু হবে কর্মব্যস্ততা। এ বিষয়ে রামগড়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন গতকাল আজাদীকে বলেন, দুই দেশের সড়ক বিভাগসহ ভারতের ঠিকাদার ও উচ্চ পর্যায়ের বন্দর কর্মকর্তাগণ ইতোমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ অংশে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। এখন শুধু নির্মাণকাজ শুরু হওয়া বাকি। বর্ষা শেষে কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। বিজিবির স্থানীয় রিজিওন কমান্ডার কর্নেল জাহিদ আজাদীকে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আবার রামগড়ের এ স্থলবন্দর থেকে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযোগস্থল বারইয়ারহাট পর্যন্ত ফোর লেনের প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত। তিনি বলেন, আশা করছি এই স্থলবন্দর দুই দেশের যোগাযোগ ও উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের কিছু রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। এর ফলে বাণিজ্যিক অবস্থাও ভালো। এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা থেকে শুরু করে পার্বত্য রামগড় ও খাগড়াছড়ি অংশের সীমান্তে ত্রিপুরা রাজ্য।

আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলএ সাত রাজ্যকে বলা হয় ‘সেভেন সিস্টার্স’। সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখের যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো নয়। তাই আগরতলা অনেকটা বাংলাদেশমুখী। আগরতলায় রয়েছে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা। নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে ত্রিপুরারাজ্য অনেকটাই বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ভারতের সঙ্গে আখাউড়া হয়ে একটি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রতিদিন মাছ, পাথর, সিমেন্ট, ইট, শুটকি, পাস্টিক সামগ্রী, তুলাসহ বেশ কিছু বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি শুরু হয়। বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, পাটজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, কোমল পানীয়, ঢেউটিন, চিটাগুড়, পোল্ট্রি, মাছ ও শুটকি। তবে এখন সিমেন্ট বেশি আমদানি হয় বাংলাদেশ থেকে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার মূল শহর থেকে আখাউড়া সীমান্ত মাত্র তিন কিলোমিটার। সেজন্য বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় পণ্য রফতানিও অনেকটা সহজ। কিন্তু তাও চট্টগ্রাম থেকে অনেক দূর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামগড় স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে ত্রিপুরার বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ক নতুন সম্ভাবনায় পৌঁছবে।

আগরতলার জনৈক ব্যবসায়ী জানান, বাংলাদেশের সাথে এখানকার মানুষের ভাষা, খাবারে অনেক মিল। বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্যে পণ্য আসতে সময় কম লাগে। তাছাড়া পণ্যের মানও ভালো।

নির্মাণাধীন স্থলবন্দর সংযুক্ত মহামুনি বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ সুবেদার কামরুজ্জামান বলেন, সামনেই এখানে ব্যাপক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। সবাই আশা করছে, এর ফলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।

LEAVE A REPLY