আজাদী প্রতিবেদন

সরবরাহ সংকট না থাকলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি সবজির বাজার। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত তিন সপ্তাহ আগে বৈরি আবহাওয়ার অজুহাতে বাজারে সবজি আসেনি বলে কয়েক দফার দাম বাড়ায় বিক্রেতারা। অথচ গত সপ্তাহে আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল। ঠিক সময়ে সবজি বোঝাই ট্রাকও এসেছে বাজারে। তারপরেও কমেনি সবজির দাম। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় উপজেলার সবজিগুলোর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা কিছু আগাম শীতকালীন সবজির দাম উর্ধ্বমুখী রয়েছে। অপরদিকে ইলিশসহ কমেছে সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ। এছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজারে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। আগস্টের শুরুতেও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৭ টাকায় মিললেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। হঠাৎ এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বন্যায় আড়তে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া, সামনে কোরবানির ঈদ থাকা এবং ভারতের বাজারে দাম বাড়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল নগরীর কাজীর দেউরি ও ২ নং গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২২২৫ টাকা, বরবটি ৮০৯০ টাকা, লাউ৫০৫৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৬৫৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬৫৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (পাঁকা) ৪০৪৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (কাঁচা) ৫৫৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০৫৫ টাকা, ফুলকপি ১৩০১৫০ টাকা, শিম ১২০১৫০ টাকা, বেগুন ৭০৮০ টাকা, পটল ৫০৬০ টাকা, সিলেটি বেগুন ৭০৮০ টাকা, মূলা ৭৫৮০ টাকা, তিতাকরলা ৭০৮০ টাকা, কচুর চড়া ৪৫৫০ টাকা, পেপে ৪৫৫০ টাকা, ঢেড়শ ৫৫৬০ টাকা, দেশী টমেটো ১৪০ টাকা ও ভারতীয় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এছাড়া কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১২০ টাকায়।

২ নং গেটের সবজি বিক্রেতা আলী আহম্মদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির দাম বাড়েনি। এখন সবজির সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। বাজারে সীতাকুণ্ড, দোহাজারী, বাঁশখালী ও রাঙ্গুনীয়া থেকে বেশি সবজি আসে। তবে এর বাইরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু আগাম শীতকালীন সবজিও আসছে। তবে সেইসব সবজির দাম চাঙা রয়েছে।

সবজি ক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার উর্ধ্বমূখী। তখন বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে দাম বাড়িয়েছিলো বিক্রেতারা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলেও এখনো দাম কমছে না।

অপরদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গলদা ও বাগদা চিংড়ি আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। এছাড়া সরবরাহ বাড়ায় কমেছে বিভিন্ন আকারের ইলিশের দাম। আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯৫০ টাকা। এছাড়া রুই আকারভেদে ২২০৩০০ টাকা, কাতলা ৩৮০৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০১৪০ টাকা, লইট্টা ১২০১৩০ টাকা, কার্প জাতীয় মাছ ১৫০২০০ টাকা, কৈ মাছ ১৩০১৫০ টাকা, কোরাল মাছ আকারভেদে ৩৫০৪০০ টাকা, সুরমা মাছ ৩০০৩৩০ টাকা, রূপচাদা ৬০০৭৫০ টাকা, বাটা মাছ ১৩০১৪০ টাকা, মাগুর মাছ ১০০১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউরির মাছ বিক্রেতা আব্দুস শুক্কুর বলেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে বাজারে ইলিশসহ কমেছে সব ধরণের সামুদ্রিক মাছের দাম। তবে পুকুরের মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্যদিকে মাংসের বাজারে গরু হাড়সহ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ ও হাড়ছাড়া ৬০০ টাকা। এছাড়া খাসীর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। অপরদিকে দেশী মুরগী ৩৮০ টাকা ও বয়লারের মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

কাজীর দেউরি বাজারের খুচরা বিক্রেতা আমান আলী বলেন, পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫৫ টাকায়। এছাড়া তিনদিনের ব্যবধানে রসুন কেজিতে ৩৫ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আদা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এছাড়া হলুদ কেজিতে ১৩০ টাকা, মরিচ ১৩৫ টাকা ও ধনিয়া ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানের আগে দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান মুদি দোকানি সিরাজ উল্লাহ। অন্যদিকে সয়াবিন তেল ১ লিটার ১০৫ টাকা, ২ লিটার ২০০ টাকা, ৩ লিটার ৩১৫ টাকা ও ৫ লিটার ৫১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY