ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে চোখ হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শুক্রবার বিকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এই তরুণ। তার সঙ্গে ছিলেন ভাই নওয়াব আলী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নওয়াব বলেন, ‘সিদ্দিকুর দুই চোখে দেখতে পায় না। বাঁ চোখে একটু আলো অনুভব করতে পারে। ওটাকে দেখা বলা যায় না।’ সিদ্দিকুর বলেন, তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান, কারও অবহেলার পাত্র হতে চান না। খবর বিডিনিউজের।

বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর ফটক দিয়ে সিদ্দিকুর বেরিয়ে এলে বন্ধুসহপাঠীরা তাকে স্বাগত জানান। সিদ্দিকুরকে ‘অন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে’ সেখানে তাদের চোখ ছিল কালো কাপড়ে ঢাকা। তাদের একজন সিদ্দিকুরের বন্ধু শাহ আলী বলেন, আমাদের সিদ্দিকুর আর চোখে দেখবে না, তার জন্য পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে। আমরাও চোখে কালো কাপড় বেঁধে সেই যন্ত্রণা বুঝতে চাই। সিদ্দিকুরের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সাতদফা দাবি তুলে ধরা হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। পরীক্ষার সময়সূচির দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। তখন সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ার শেলের আঘাত লাগে বলে তার সহপাঠীদের অভিযোগ। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর সরকারের ব্যবস্থাপনায় গত ২৭ জুলাই চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে নেওয়া হয় সিদ্দিকুরকে। ভাই নওয়াব আলী ছাড়াও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান মেনন চেন্নাইয়ে সিদ্দিকুরের সঙ্গে ছিলেন।

LEAVE A REPLY