চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের পার্বত্যাঞ্চল সমূহে পাহাড় ধস একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর বৃষ্টি হলে কিংবা বর্ষায় পাহাড়ধস হয় এবং তাতে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রাঙমাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের রাংগুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে মারা গেছে দেড় শতাধিক মানুষ। যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কিন্তু এই পাহাড় ধস কেন? ভূতাত্ত্বিকদের মতে, আমাদের পাহাড়ি অঞ্চলের উপরের দিকের মাটিতে কঠিন শিলার অস্তিত্ব নেই বললেও চলে। ফলে আমাদের পাহাড় ধসের আশংকা এমনিতেই বেশি। তাছাড়া মানুষ এসব জায়গায় বসবাসের জন্য ও চাষাবাদে পাহাড়ের উপরের দিকের মাটির শক্ত স্তরও কেটে ফেলে। পাশাপাশি বড় গাছপালা কেটে ফেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। মনুষ্য সৃষ্ট কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে; পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলা, মাটি কেটে ফেলা, পাহাড়ে প্রাকৃতিক খাল বা ঝর্ণার গতি পরিবর্তন, পাহাড়ের ঢালুতে অতিরিক্ত ভার দেওয়া এবং খনি খননের কারণে পাহাড় ধস হতে পারে। বাংলাদেশের পাহাড়গুলোতে কোন কঠিন শিলা নেই। তাই বৃষ্টির কারণে এ ধরনের মাটি পানি শুষে ফুলতে থাকে। মাটিগুলো নরম ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে ভারি বর্ষণের সাথে সাথে মাটি ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ের পাহাড় ধসে প্রাণহানির পরও মানুষ অন্যত্র যেতে চায় না। পাহাড়ের পাদদেশে বাড়ি করে থাকতে চায়। প্রভাবশালী অনেক মানুষ পাহাড়ের জায়গা দখল করে সেখানে বসবাসের জন্য বাসাবাড়ি তৈরি করে স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে ভাড়া দেয়। সংযোগ দেয়া হয় বিদ্যুতের। আর কম আয়ের মানুষগুলো অন্য কোথাও ঠাঁই না পেয়ে এসব কমমূল্যের বাসায় থাকতে আগ্রহী হয়। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে মাঝে মাঝে বসতি উচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। কিন্তু সেগুলো সাময়িক! কার্যকর থাকে না দীর্ঘদিন। কিছু দিনের মধ্যে আবার আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যায়। পাহাড় ধসে আহত হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। এত সংখ্যক মানুষ নিহত, আহত হওয়ার পরও পাহাড়ের পাদদেশ থেকে লোকজনদের সরানো যাচ্ছে না। যে কারণে সমূহ আশংকা থেকেই যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করা এসব মানুষ চায় একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই। পাহাড় ধস জনিত কারণে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি রোধ করতে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ। যে সব প্রভাবশালীদের কাছে পাহাড় কব্জা রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। রক্ষা করতে হবে পাহাড়। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি না গড়তে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকার কারণে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষ কোথাও যেতে পারছে না ! এ সমস্যার আশু সমাধান না হলে প্রাণহানি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি থেকে মানুষদের রক্ষায় নিতে হবে উপযুক্ত পদক্ষেপ। কোন ধরনের গাফেলতি এ সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করবে। সংকটে পড়বে জানমালের নিরাপত্তা। তাই সময়োচিত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম, চট্টগ্রাম।

LEAVE A REPLY