সন্দ্বীপ প্রতিনিধি

ভারী বর্ষণে সন্দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বেশিরভাগ জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এলাকা হয়ে মাইট ভাঙা পর্যন্ত শাখা খালটি দখলমুক্ত না হওয়ায় মুছাপুর আজিম শাহ সড়ক, মুছাপুর ডিবি সড়ক, মাইট ভাঙা হেদাজি সড়ক, গাজীর গোফাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদরাসা সড়ক, মৌলভী হামিদউল্লাহ সড়ক, চৌরাস্তা বাংলা বাজার সড়ক, আমানউল্লাহ ইউনিয়নের আমানউল্লাহ গাছুয়া ফেরিঘাট সড়ক, সন্তোষপুর ইউনিয়নের হাই স্কুল সড়ক, বাউরিয়া ইউনিয়নে গাজী মার্কেট সড়ক, কালাপানিয়া ইউনিয়নে দীঘির নালা সড়ক, সন্দ্বীপ পৌরসভার কার্গিল হাই স্কুল, পৌরসভা ক্রস রোড ও কুছিয়ামোড়া সড়কসহ নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ এলাকায় পুকুরডোবা পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। এছাড়া কাদা মাড়িয়ে শত শত স্কুল শিক্ষার্থী ও পথচারীকে যাতায়ত করতে দেখা গেছে।

এদিকে পরিকল্পনাবিহীন গৃহ নির্মাণ ও বিভিন্ন স্থাপনার সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পানি চলাচলের খাল বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে মুছাপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শপাড়া আজিমশাহ এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সিনজি টেক্সি চালক আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমাদের এখানে আমরা অনেকে সিএনজি টেক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের এই আয় দিয়েই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে। এখানে রাস্তার উপর হাঁটু পানি জমে থাকায় গাড়ি পারাপার করতে পারি না। ফলে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে রান্না পর্যন্ত হচ্ছে না। মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আমেনা বেগম, ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা আক্তার জানায়, বর্ষা মৌসুম এলেই এখানে রাস্তার উপর হাঁটু পানি জমে যায়। আমাদের পরনের পায়জামা গুটিয়ে এক হাতে স্যান্ডেল ও অন্যহাতে বই নিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে অনেক সময় আমাদের বই, খাতা, কলম পানিতে তলিয়ে যায়, তাছাড়া কোনো কোনো দিন গর্তের মধ্যে পা পিচলে গিয়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সেদিন স্কুলে আর যাওয়া হয় না। এতে আমাদের পড়ালেখা বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা এ দুর্ভোগ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক প্রবীণ এক সমাজকর্মী বলেন, ক্ষমতাসীনদের কাছে আমরা জিম্মি। মাছের লোভে ভাটার সময় ুইচ গেইটের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় না। যার কারণে জলাবদ্ধতা বেড়ে যায়। মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল কবির বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ হওয়াতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম ছিল। ফলে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। সারিকাইত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম পনির বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করায় সন্দ্বীপে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত পানি নিঃষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

LEAVE A REPLY