মো. মুজিবুল হক শ্যামল

ব্যায়াম করুন সুস্থ ও সুন্দর থাকুন’ আমার এই উক্তিকে জিইয়ে রাখতেই আমার লেখা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হবে। শুধুমাত্র দিবস পালন বা সেমিনার করলেই চলবে না। এই জন্য হৃদরোগীদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। হৃদরোগের প্রধান কারণ হল হৃদপিন্ডের মাংসপেশিতে রক্ত সঞ্চালনকারী যে ধমনী বা আর্টারিগুলো রয়েছে সেগুলোর দেওয়ালে চর্বি জমে (কোলেস্টেরল) যাওয়ার ফলে এই রক্তনালীগুলো সরু হয়ে গিয়ে রক্ত সঞ্চালন কমে যায় কিংবা রক্তের গতিপথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। আর এর ফলেই শুরু হয় হার্টের অসুখ। যদি কখনো হার্টের করোনারি আর্টারির (হার্টের পেশিগেুলোকে যেসব ধমনী বিশুদ্ধ রক্ত যুগিয়ে বাঁচিয়ে রাখে তাদের বলা হয় করোনারি আর্টারি) রাস্তাগুলো সম্পূর্ণ বদ্ধ হয়ে যায়তাহলে অক্সিজেন যুক্ত রক্তের অভাবে হার্টের পেশির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং পেশি মরে যায় আর এই ব্যাপারটাই হল হার্ট অ্যাটাক।

ব্যায়ামচর্চা : যেহেতু হৃদপিণ্ড হচ্ছে একটা মাংস পেশী। এই পেশীর রক্ত সঞ্চালনের জন্য চাই নিয়মিত ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম করলে নবীন হার্ট আপনারও হবে। শুধুমাত্র একটু সচেতন হলেই যথেষ্ট। কয়েকদিন ব্যায়াম করে দেখুন আপনার অনুভুতি। আমার মতে একমাত্র ব্যায়ামেই পারে আপনাকে ফিট, সবল, মজবুত করে তুলতে। হৃদরোগের মতো কঠিন ক্রনিক রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যায়ামচর্চা। হৃদরোগীদের জন্য ব্যায়াম অতীব প্রয়োজন। কারণ ব্যায়ামের ফলে প্রতি হৃতস্পন্দনে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় গতি স্বাভাবিক থাকে। ব্যায়াম ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাক্টর গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শরীরের জমা চর্বিগুলো ব্যয় করে শরীরের ওজন কমিয়ে দেয়, স্থুলতা থেকে রক্ষা করে আপনাকে সহ্মীম করে দেয়। হার্ট এবং মস্তিস্কের চিকন বা সরু ধমনীগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা জমাট বেঁধে যাওয়াকে রোধ করে। কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং আপনাকে ফিট করে তোলে।

হাঁটুন : হৃদরোগীদের জন্য হাঁটা সবচেয়ে ভালো ও আদর্শ ব্যায়াম। দৈহিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যায়াম হয় এবং এতে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। হাঁটার ব্যায়াম যখন খুশি তখন এবং যেখানে খুশি সেখানে করা যায়, এতে কোনো দামী সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও প্রায় সকলেই হাঁটতে পারে। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিও স্বল্প সময়ের জন্য মুক্ত বাতাসে হেঁটে উপকৃত হতে পারেন। হাঁটার জন্য আপনার কারও সাহায্যও প্রয়োজন হবে না। আপনার ইচ্ছানুযায়ী যখনতখন হাঁটতে পারেন। তবে হাঁটার জন্য ভোর বেলাই উওম। এসময় মুক্ত বাতাসে হাঁটলে আপনার শরীর এবং হার্টের জন্য খুব ভালো।

কতক্ষণ/কিভাবে হাঁটবেন বা ব্যায়াম করবেন : হাঁটাকে শরীরের উপকারে লাগাতে হলে দু’টি বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে গতি এবং দূরত্ব। যখন আপনি সত্যিকার অর্থে হাঁটা শুরু করবেন, কখনও ধীরে সুস্থে অলসভাবে বা পা টেনে হাঁটবেন না। এমনভাবে হাঁটবেন যেন আপনার নাড়ির গতি বেড়ে যায় এবং ফুসফুসকে বেশি কাজ করতে হয়। হাঁটার সময় মাথা ও পিঠ সোজা এবং পেট চেপে হাঁটুন। এমনভাবে হাঁটবেন যেন গোড়ালি আগে মাটি স্পর্শ করে এবং হাত দু’টো যেন দু’পাশে দুলতে থাকে। লম্বা পা ফেলে হাঁটুন তবে হাঁটা যেন কিছুতেই বেশি পীড়াদায়ক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কমপক্ষে ২০ মিনিট এবং ঊর্ধ্বপক্ষে ৬০ মিনিট ধরে হাঁটা দরকার, যদি হাঁটা বেশি পীড়াদায়ক হয় তবে সময় কমিয়ে দিন, আর মোটেও ক্লান্তি না লাগলে সময় বাড়িয়ে দিন। সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন হাঁটুন, তবে ৪, ৫ বা ৬ দিন হাঁটতে পারলে আরও ভালো হয়। হাঁটার মতা বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে গতি ও দূরত্ব বাড়িয়ে দিন। এ্যারোবিকস ব্যায়ামের সময় কষ্ট করে শ্বাস নিতে হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। বেশি পরিশ্রান্ত হওয়া বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াও খারাপ। যদি বেশি বুক ধরফড় করে, ঘুমঘুম বা অচেতন হওয়া বোধ হয় বা খুব বেশি গাম আসে তা ব্যায়াম বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া দরকার। যদি বেশি অবসাদ গ্রস্ত লাগে বা ব্যায়ামের অনেকক্ষণ পরও মাংসপেশি ব্যথা করে তবে বুঝতে হবে যে, বেশি ব্যায়াম করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY