চীন ভারত সরকারকে জানিয়ে দিল যে আংশিক নয়, ডোকলাম থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনও শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি নয় বেইজিং। জার্মানিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংএর সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও সে দিনও চীন রাজি হয়নি। এত দিন পরেও চীন তার নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরল না। কূটনৈতিক সূত্রের মাধ্যমে চীন ভারতকে আরও জানিয়েছে, নয়াদিল্লি যদি এক সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার না করে তাহলে চাইলে ধাপে ধাপে করতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চেয়েছে বেইজিং।

আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যাওয়ার কথা মোদীর। চীন ও ভারত কোনও পক্ষ থেকেই সরকারি ভাবে এখনও নরেন্দ্র মোদীর চীন সফরের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদি ব্রিকস সম্মেলনের আগে এই বরফ না গলে তা হলে চীনে গেলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে না। যেমনটি হয়নি জার্মানিতে।

চীন দাবি করছে, অতীতে ভুটান লিখিত ভাবে তাদের জানিয়েছে ডোকলামের ভূখন্ডটি চীনের অধীনে। সুতরাং ডোকলামে ভারতীয় সেনা পাঠানো সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি যখন চীনের সঙ্গে ভুটানের তখন ভারত নাক গলাচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। ভুটান ভারতের বন্ধু হলেও, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে ঝামেলা করতে চায় না তারা। আর সেখানেই সমস্যায় পড়েছে ভারত।

গতকাল বিমস্টেকের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে কাঠমান্ডু পৌঁছেন সুষমা স্বরাজ। সেখানে ভুটানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। চেষ্টা করেন ভুটানের মানভঞ্জনেরও। সুষমার পক্ষ থেকে ভুটানকে জানানো হয়েছে সে দেশের সার্বভৌমত্বে কোনও ভাবেই নাক গলাবে না নয়াদিলিহ্ম। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ডোকলামকে চীনা এলাকা বলে মেনে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ভুটান। থিম্পু জানিয়েছে, ডোকলাম তাদেরই এলাকা। সেখানে রাস্তা তৈরি করে চীনা সেনা ভুটানের সার্বভৌমত্বে হাত দিয়েছে। ভারতের চাপেই ভুটান এই পদক্ষেপ করেছে বলে ধারণা কূটনীতিকেরা।

আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY