সবুর শুভ

প্রেমের টানে পালিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করার পর আটক প্রেমিককে ৭২ ঘণ্টা থানা হাজতে আটক রাখার ঘটনায় হালিশহর থানার এসআই বেলালসহ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একজন উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদ মর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে ঘটনার তদন্তপূর্বক এ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালত। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে আসামিকে ৭২ ঘণ্টা বেআইনিভাবে থানায় আটকে রাখায় বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের নজরে আনার জন্য এ আদেশের কপি সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর প্রেরণ করার আদেশও দেন বিচারক।

এ সংক্রান্ত দেয়া আদেশে রাষ্ট্রের জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অর্থাৎ মানুষের স্বাধীনতা হরণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া কোনোভাবে কাম্য নয় এবং এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে, আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর কোনো মামলা রুজু না করে ৭২ ঘণ্টা থানা হাজতে আটক রাখার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিউটি অফিসারগণ তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। একইসাথে কোনো বিশেষ পুলিশ কর্মকর্তার অন্যায় কর্মকাণ্ড থানার অভ্যন্তরে সম্পন্ন করার সুযোগ কোনোভাবে তারা দিতে পারেন না। জানা গেছে, প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেন আসামি সেলিম মিয়া ও অপ্রাপ্ত বয়স্কা এক স্কুল ছাত্রী। পাঁচমাস আগে তারা বিয়ে করেন বলে জানা গেছে। পাঁচ মাস পূর্বের ঘটনায় মামলা নিয়ে গ্রেপ্তারের তিনদিন পর নতুন মামলা দিয়ে আসামি সেলিম মিয়াকে আদালতে তোলে পুলিশ। ভিকটিম এবং আসামি উভয়ের জবানবন্দিতে এর সত্যতা সম্পর্কে একই বক্তব্য আসায় হালিশহর থানার ওসি ও এসআইসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত শনিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালত এ আদেশ দেন। একই আদেশে ভিকটিমকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত থেকে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন সেলিম মিয়া। ওই ছাত্রীর বয়স ১২ বছর। এ অবস্থায় মেয়েটি অপহৃত হয়েছেন উল্লেখ করে গত বছরের ৬ অক্টোবর হালিশহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং৩২৪) করে মেয়ের পরিবার। থানায় ডায়েরি করার পরও থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও গত ১৫ মার্চ ভিকটিম ও সেলিম মিয়াকে একইসাথে আটক করে পুলিশ। ১৭ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের ধারায় মামলা নিয়ে ১৮ মার্চ আসামি সেলিম মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেলিম মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার করার কথা স্বীকার করেন। একই সাথে জবানবন্দিতে তিনদিন থানায় আটকে রাখার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। অন্যদিকে ভিকটিমও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে পালিয়ে বিয়ের কথা জানানোর পাশাপাশি তাকে তিনদিন আগে আটক করে থানা হাজতে আটকে রাখার অভিযোগ করেন।

শুনানির সময় ভিকটিম এবং আসামির উভয়ের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আসামিকে তিনদিন থানা হাজতে রাখা ও অন্যান্য তথ্য মামলায় সন্নিবেশ না করাসহ সকল বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ অবগত হয়েও পুনরায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/() ধারায় মামলা রুজু করা বোধগম্য নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে এ ধরনের মনোবৃত্তিকে বিদ্বেষপ্রসূত বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, ফৌজদারী কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায় আসামিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজিরের বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করেন আদালত। এক্ষেত্রে আপীল বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনার কথা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা আগামী ১৯ এপ্রিল প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY