সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

পাহাড়ি ঢল আর ভারি বর্ষণের এই মাসেই দুইবার প্লাবিত হল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী ইউনিয়নসহ নিম্নাঞ্চল। গত দুই দিনের ভারি বর্ষণ আর উজানে পাহাড়ি ঢলের কারণে মাইনী নদীর পানি দুকূল ছাপিয়ে উপর দিয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করছে। পানিতে থই থই গ্রামীণ বাজার, বসতবাড়ি ফলে দীঘিনালার কবাখালী, মধ্য বেতছড়ি, ছোট মেরুংয়ের ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি, মেরুং বাজার ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজারে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

অতি বৃষ্টিতে হাজাছড়া, আলীনগর, রশিকনগর বেশকিছু এলাকায় মানুষজন পাহাড় ধসের আশংকায় বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। শনিবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং হেড কোয়ার্টার এলাকায় রাস্তায় পানি উঠার কারণে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলো একপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নৌকায় পার হচ্ছেন বাসিন্দারা। নৌকার মাঝিরা বলেন, ‘রাতের ভারির বৃষ্টিতে রাস্তার দু’পাশের অংশ এবং কয়েকটি বেইলি ব্রিজ পুরোপুরি ডুবে যায়, দু’পাড়ের মানুষ পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহার করছে। কাল রাতের বৃষ্টি ও ঢলের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পানিতে তলিয়ে গেছে বাজারের নিচু অংশের প্রায় শতাধিক দোকান।

মেরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন বলেন, ‘রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করায় চিটাগাং পাড়া, সোবাহানপুর ১ কলোনির কিছু অংশ, লম্বাছড়ি গুচ্ছ গ্রাম, তোজোকিছড়া, হাজাছড়া গ্রামের প্রায় ৩৫০ ঘর বাড়ি ডুবে গেছে। পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দীঘিনালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহাফুজুর রহমান, দীঘিনালা উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান নবকোমল চাকমাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দীঘিনালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘বন্য কবলিত ৫০ পরিবার ইতিমধ্যে ছোট মেরুং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্রে আরো পরিবার আসছে এবং পাহাড় ধসের আশংকায় আগে থেকেই ১২ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রশিক নগর দাখিল মাদরাসায়। তিনি বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় সন্ধ্যায় মোট দু’শ পরিবারে মাঝে ৫ কেজি চাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, স্যালাইন, মোমবাতিসহ ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’ এদিকে আরো কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি না কমলে আমন চারা নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। অনেক আমন ধানের জমির ৫ থেকে ৬ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা বলছেন, এই মাসের মধ্যে দু’বার পানিতে ডুবছে ধানি জমি। এবারে বন্যা স্থায়ী হলে নতুন রোপণকৃত আমনের চারা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে চাষের জমির মারাত্নক ক্ষতি হবে।

LEAVE A REPLY