আজাদী প্রতিবেদন

চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটিতে গড়ে উঠা আধুনিক উচ্চশিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। নগরীর হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করে যাচ্ছে এই ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞ শিক্ষকরা। অল্প সময়ের মধ্যে সবার মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। এখানকার শিক্ষার পরিবেশ, আধুনিক সুযোগসুবিধা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, স্কলারশিপ, পরিকল্পিত অত্যাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সবকিছুই নজর কাড়ছে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে। গতকাল ঝড়ো আবহাওয়ার মাঝেও নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বর্ধিত একাডেমিক ভবনে আয়োজিত অ্যাডমিশন ফেয়ারে এই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জমজমাট উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে।

ভবিষ্যতে দেশসেরা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিবিএ পড়তে ইচ্ছুক দীপ্ত চক্রবর্তী জানান, বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও এখানে এসেছি ভর্তি হতে। অনেক প্রশংসা শুনেছি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির। স্থায়ী ক্যাম্পাস আর পড়ালেখার পরিবেশ দেখে দারুণ লাগছে। এখানে ভর্তি হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। এখানকার অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নিজেকে ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চান জাহিন মালিয়াত। তিনি বলেন, ইংরেজি আমার খুব পছন্দ। তাই অনন্য এই ক্যাম্পাসে দেশসেরা শিক্ষকদের কাছে পড়ব সেই স্বপ্ন ছিল এতোদিন। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এইরকম পরিবেশে লেখাপড়া করা প্রয়োজন। তাই এখানে ভর্তি হতে এসেছি।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জানিয়ে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি সাঈদ আল নোমান বলেন, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সবধরনের সুযোগসুবিধা নিয়ে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। ক্যাম্পাসে নানারকম অত্যাধুনিক সুযোগসুবিধার পাশাপাশি গবেষণার জন্য ১১টি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি রয়েছে। ৮ হাজার শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই পরিবেশবান্ধব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষকশিক্ষার্থী সবার জন্য রয়েছে নানারকম অত্যাধুনিক সুযোগসুবিধা। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পঞ্চাশ হাজার বই সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি যেখানে সবধরনের আধুনিক অনলাইন সুবিধা আছে। শুধু তাই নয়, এখানকার অভিজ্ঞ শিক্ষকরা পরিকল্পিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যাতে দেশের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে পারে সেজন্য নানারকম আয়োজন রাখা হয়েছে এই ক্যাম্পাসে।

দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই দেশের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে যাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। সেভাবেই ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞ শিক্ষকরা এখানকার শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, দেশের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসবে এমন শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছি আমরা। এখানকার শিক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমে ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও অবদান রাখবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। এজন্য আধুনিক শিক্ষার সাথে বাস্তবধর্মী শিক্ষাও দেয়া হয় তাদের। একদিন আমাদের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি উপলক্ষে নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বর্ধিত একাডেমিক ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী অ্যাডমিশন ফেয়ারের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর সামসউদদোহা। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং অভিভাবকদের প্রশংসা শুনে সামসউদদোহা বলেন, আমাদের সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা এবং শিক্ষার গুণগত মান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তুলে ধরতে এই অ্যাডমিশন ফেয়ার আয়োজন। সকালে অ্যাডমিশন ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর শাফায়েত চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়ুয়া ও অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

২০১৭ সালের ফল সেমিস্টারের ভর্তির যাবতীয় তথ্য ছাড়াও ফেয়ারে ছিল স্পট অ্যাডমিশনে ৫০ শতাংশ ওয়েভার, স্কলারশিপ, ক্যাম্পাস জব, ক্যারিয়ার প্লেসম্যান্ট সেল, ক্রেডিট ট্রান্সফার ও বিদেশি ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমের নানান তথ্য। পাশাপাশি পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম ঘুরে দেখার সুযোগ ছিল। শিক্ষার্থীদের ক্লাব কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি দিনব্যাপী অ্যাডমিশন ফেয়ারে অনুষ্ঠিত হয় গেইমিং কনটেস্ট। আর সেলফি বুথে ছবি তুলতে লাইন পড়ে যায় নবীন শিক্ষার্থীদের। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিবিএ, এমবিএ, ইংরেজি, অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চালু রয়েছে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম। যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের দুই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে বা যারা ভর্তির পর পরবর্তী সেমিস্টারে ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য রয়েছে একাধিক স্কলারশিপ।

LEAVE A REPLY