আজাদী প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ..ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে গণমাধ্যম যথার্থ তথ্য দিচ্ছেনা। এই নগরে জলাবদ্ধতা কখন থেকে শুরু, প্রথম কোন জায়গা জলাবদ্ধ হয়েছিল, নগরবাসী ঠিক মত নাগরিক দায়িত্ব পালনে কতটা সচেতন সেই খবর গণমাধ্যমে আসে না। নাগরিকদের অনেকেই যখন যেখানে খুশি ময়লাআবর্জনা ফেলছে, খাল নালা ভরাট করছে। এই কথাগুলো জোরালোভাবে আসছেনা। এই দিকটাই আমাকে বেশী আহত করে। মেয়র গতকাল শনিবার রবি দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সকালে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মেয়র।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে যারা চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ ও পুরো বিশ্বে পরিচয় করাচ্ছে তাদের মধ্যে দৃষ্টি চট্টগ্রাম অনত্যম। চট্টগ্রামের নানাবিধ সমস্য সমাধানকল্পে তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্‌বান জানান। মেয়র বলেন, প্রকৃতির বিরুপ আচরণে আজ আমরা ভুক্তভোগী কিুম্ন উন্নত চিন্তা ও দক্ষ পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, রবির কমিউনিকেশনস এন্ড কর্পোরেট রেসপন্সিবিলিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর, সানশাইন গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান ও চসিকের শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি নজমুল হক ডিউক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জসিম উদ্দীন বলেন, দৃষ্টি প্রতিনিয়ত তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে সৃজনশীল তরুণ উদ্যোক্তা ও নেতা তৈরি করছে। আর এ ধরণের প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মেধাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান বলেন, সবাই মিলে যখন কাজ করব খুব বেশি সময় লাগবে না এগিয়ে যেতে। ইকরাম কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ে উঠবে এই স্বপ্নবাজ ও দেশপ্রেমিক তরুণদের মাধ্যমে। আর এই প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী কাজী আরফাত।

পাহাড় নদী ফুলের দেশ, চট্টগ্রাম মানে বাংলাদেশ। জলবদ্ধতা, পাহাড়ধস কিংবা বিল বোর্ডের নগরী চট্টগ্রাম নয়, চট্টগ্রাম হচ্ছে বীরের শহর। ‘আশার চট্টগ্রাম আগামীর চট্টগ্রাম নিয়ে’ এমনিই একটি জমকপদ ডকুমেন্টারির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই ২টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এটি পরিচালনা করেন আইমান সাদিক। এতে ৪১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। স্কুল বিতর্কের ২৫তম এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ৪২টি স্কুলের ৪৮টি, ১৪তম বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে সারা দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি এবং ১ম কলেজ ইংরেজি বিতর্কে ১২টি কলেজসহ ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯২টি বিতর্ক দল অংশগ্রহণ করছে। ১৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY