রাঙামাটি প্রতিনিধি

গত দুদিন ধরে ভারী বর্ষণে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি স্থানে হালকা পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড় ধসের আশংকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে লোকজন। কাপ্তাই হ্রদে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে পড়তে যাওয়া জল বিদ্যুত কেন্দ্রের বাঁধ রক্ষায় ১৬টি স্পিলওয়ে দিয়ে সেকেন্ডে ছাড়া হচ্ছে ৩৮ হাজার কিউসেক পানি। পানি বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, দুই ফিট উচ্চতার ১৬টি স্পিলওয়ে খুলে দেয়া হয়েছে। এভাবে পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হ্রদের পানির সার্বিক পরিমাপের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুত কেন্দ্রে চারটি ইউনিট দিয়ে বর্তমানে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান। শুক্রবার ও শনিবার ভারী বর্ষণের কারণে রাঙামাটি শহরের নতুন পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে গিয়ে দুটি বাড়ী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া একই স্থানে পাহাড় ধসে বাড়ীর সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। তবে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি প্রায় দুই ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, দুই তিন ধরে ভারী বর্ষনের ফলে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু দুই ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন ঝুলন্ত সেতুটিতে পর্যটকদের চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। যারা ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের মাইকিং এর পর কিছু সংখ্যক লোকজন নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও অধিকাংশ লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে শহরের শিমুলতলী, নতুন পাড়া, রুপনগর, লোকনাথ মন্দির এলাকার, পশ্চিম মুসলিম পাড়া।

শহরের শিমুলতলী ও লোকনাথ মন্দির এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করা ইদ্রিস ও মানিক জানান, আমাদের কোন ভাড়া ঘর নেই, এখন কই যাবো এরপরেও মৃত্যুর ভয় নিয়ে এখানে বসবাস করছি। অপরদিকে, পশ্চিম মুসলিম পাড়া এলাকার রহিম বলেন, প্রশাসন মাইকিং করছে শুনেছি। কিন্তু তারপরেও এখানে আছি।

অপরদিকে, রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মো: এমদাদ হোসেন বলেন, রাঙামাটি সড়ক বিভাগের সবগুলো সড়ক সচল রয়েছে। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি হলে রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কে হালকা ভারী যানবাহন সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং লেকের বাঁধের গেট খোলা থাকায় রাজস্থলী বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরী চলাচল মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ঝুকিপুর্ন অবস্থায় বসবাসকারী সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য রাঙামাটি পৌর কাউন্সিলদের বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরাও কাজ করছে। তিনি বলেন, যদি কেউ নিজেদের ঘরবাড়ী ছেড়ে আসতে না চায় তাদেরকে জোর করে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা অনেক কঠিন কাজ তারপরেও আমরা প্রতিদিন বাড়ী বাড়ী গিয়ে তাদেরকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন,শহরে মাইকিং করা হচ্ছে যারা ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় তারা যেন নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসে। জেলা প্রশাসক আরো জানান,পাহাড় ধ্বস ও কাদা মিশ্রিত পাহাড়ি ঢলের কারনে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে করে হ্রদে বর্তমান সময়ে নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে অনেক বেশি পরিমানে পানি জমে গেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে অতি শীঘ্রই কাপ্তাই হ্রদে ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নাই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মানজাাল মান্নান জানালেন, এতে করে নিম্নাঞ্চলের অনেকগুলো এলাকা তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেকগুলো পরিবার। তাদেরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার। উল্লেখ্য, গেল ১৩ জুন ভারী বর্ষনের কারণে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়। রাঙামাটি শহরে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে পাহাড় ধসে তিগ্রস্থ প্রায় ১৪শ নারীপুরুষ ও শিশু আশ্রয়ে রয়েছে। আগামীকাল এ ঘটনায় দুই মাস পূর্ন হতে যাচ্ছে।

ভারী বর্ষনে পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুকিপূর্ন এলাকাগুলো চিহিৃত করে ঝুকিপূর্ন অবস্থায় বসবাসকারীদের প্রশাসন নিরাপদ স্থানে সরানো ব্যবস্থা নেবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY