আজাদী প্রতিবেদন

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আপনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে আপনি কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এ রায়ের ফলে কারা খুশি? এ রায়ের ফলে খুশি হয়েছেন মির্জা ফখরুল। এ রায়ে খুশি তার দল। তাই আপনার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, এখনো সময় আছে। আপনি পদ ছেড়ে চলে যান। আপনি এ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ গতকাল বিকালে নগরীর মুসলিম হল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইঞ্জি: মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে সংবিধান আছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশে সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্টপতিই সংবিধান অনুযায়ী আপনাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আপনি তো সাংবিধানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ঘরের ভেতরে শত্রু আছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে শুধু কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য জড়িত আছে তা কিন্তু নয়, এর পেছনে অন্যদের শক্তি আছে। সে শক্তির ঐক্য হচ্ছে মেজর জিয়া ও খুনী মোশতাক। বাইরে শত্রু থাকলে বোঝা যায় কিন্তু ঘরের ভেতর শত্রু থাকলে বুঝে উঠা কষ্ট হয়। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর লেখা পড়েছি, সেখানে পাতায় পাতায় বঙ্গবন্ধু মোশতাকের কথা লিখেছেন। ‘একটি পাতায় লেখা হয়েছে, আমার বন্ধু মোশতাক অসুস্থ, সে কি ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে, সে কি ঠিকমতো খাওয়া পাচ্ছে।’ সে বন্ধুই আজ শত্রু হয়েছে। তার চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দিলেও বঙ্গবন্ধুর ঋণ সে কখনো শোধ করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টিই হতো না। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও জাতীয়আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল। খুনিরা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আল্লাহর রহমতে বাংলার জনগণের সমর্থন নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাস্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নঅগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশের মাঠিতে পঁচাত্তরের মত আর কোন ষড়যন্ত্র হতে দেয়া হবে না। ২০০১ সালে বিএনপিজামাত জোট সরকারের আমলে ২৫ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলনের নামে যারা পেট্রোল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তাদের বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। তাদেরকে রাজনীতির মাঠে প্রতিহত করার জন্য তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। অতীতে দলীয় নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য আরো বলেন, নিজেকে বাঁচানোর জন্য আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। এজন্য নিজ দলে যারা বিরোধীতা করছেন তাদেরকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। ঘরের ভেতর শত্রু থাকলে বাইরের শত্রু লাগে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনি ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে যে রায় দিয়েছেন, সে রায়ে যারা এ মামলায় পক্ষ নয় তাদের টেনে এনে প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন।’ প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের শর্তগুলো মনে করিয়ে দিয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি মামলার পক্ষ নয়, কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে আপনি প্রতিপ বানিয়েছেন। উনার মতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আপনি জাতীয় সংসদ নিয়ে কটুক্তি করেছেন। আপনি নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আপনি রাগ ও বিরাগের বশীভূত হয়ে শপথ ভঙ্গ করেছেন।প্রধান বিচারপতি সংবিধান লংঘন করেছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে কোন একক নেতৃত্ব ছিল না বলে আপনি রায়ে বলেছেন। আপনি বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার মধ্য দিয়ে সংবিধান লংঘন করেছেন ।

ফখরুলের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘বেশি লাফালাফি কইরেন না। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে ২০১০ সালে যে রায় দেয়া হয়েছিল সে রায়ে আপিল করেছিলেন আপনাদের মহাসচিব। সেই রায় অনুযায়ী কোন সং ক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আবেদন করেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে বিএনপিকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। এতে হাসি বিষাদে পরিণত হবে’। পঁচাত্তরের হত্যাকান্ডের কুশীলবদেরও বিচার হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামে ৭টি আসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়ার জন্য বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ দিদারুল আলম এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যাপক ইউনুস গণি চৌধুরী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক মোঃ মঈনুদ্দিন, এড. ফখরুদ্দিন চৌধুরী, সিরাজুদৌল্লাহ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস গণি চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শেখ শফিউল আজম, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, পৌর মেয়র দেবাশীষ পালিত, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আলী শাহ, শাহজাহান সিকদার, মহিউদ্দিন বাবলু, জসিম উদ্দিন শাহ, বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, ইঞ্জি. মোঃ হারুন, আবুল কাশেম চিশতি, এড. ভবতোষ নাথ, আলাউদ্দিন সাবেরী, এড. এম এ নাসের চৌধুরী, মহিউদ্দিন রাশেদ, মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু, দিদারুল আলম বাবুল, আলহাজ্ব জাফর আহমেদ, ফোরকান উদ্দিন আহমেদ, এস.এম শফিউল আজম, মোঃ শওকত আলম, এড. আবুল হাশেম, কাজী মোঃ ইকবাল, শাহনেওয়াজ চৌধুরী, মোঃ ইদ্রিস, লেয়াকত চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর কবীর চৌধুরী, ইঞ্জি. শামসুল আলম চেয়ারম্যান, বশির উদ্দিন খান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, মোঃ সেলিম উদ্দিন, দিলোয়ারা ইউসুফ, এস.এম রাশেদুল আলম, এড. বাসন্তী প্রভা পালিত, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফরিদ চৌধুরী, বখতেয়ার সাঈদ ইরান, আবু তৈয়ব প্রমুখ।

LEAVE A REPLY