জন্মাষ্টমী মহোৎসবকে সামনে রেখে ১১ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জন্মাষ্টমী কেন্দ্রীয় পরিষদ। সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তা ও স্বীকৃত মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সকল ধর্মবর্ণ সম্প্রদায়ের মানুষের সমঅধিকার রক্ষা সভ্যতার দাবি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. চন্দন তালুকদার। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অন্যান্য দাবিগুলো হলোমঠমন্দিরঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শাস্তির ব্যবস্থা করা, সারাদেশে বেদখল হওয়া মঠমন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার এবং তা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় চারদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে হিন্দু ফাউন্ডেশনে পরিণত করা, হামলায় বিধ্বস্ত মঠমন্দিরঘরবাড়ি সরকারি উদ্যোগে রামুর বৌদ্ধবিহারের ন্যায় দ্রুত পুনঃনির্মাণ করা, অর্পিত সম্পত্তি সংশোধনী আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে জনগণকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়া, এরশাদ সরকারের আমলে সৃষ্ট বাংলা নববর্ষের তারিখ বিভ্রাটের অবসান, প্রতিটি জেলায় শ্রীকৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠায় সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেয়া ও শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উৎসবে সরকারি ভোগ্যপণ্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আগামী ১৪ আগস্ট ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথির স্মারক শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী সারাদেশব্যাপী যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় শোভাযাত্রা, মহানামসংকীর্ত্তণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, লীলা প্রদর্শনী, মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জন্মাষ্টমী উৎসব সাড়ম্বরে পালন চট্টগ্রাম থেকেই শুরু করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামেও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। চারদিনের কর্মসূচি সমূহের মধ্যে রয়েছে ১৪ আগস্ট সকাল ১০টায় জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ থেকে মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধন, দুপুর ১২টায় মাতৃ সম্মেলন। উদ্বোধন করবেন রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্য শ্রীমৎ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, বিকাল ৩টায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৫টায় সনাতন ধর্ম মহাসম্মেলন, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করবেন ঋষিধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ। উদ্বোধন করবেন কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়, রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পূজা ও ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহনাম সংকীর্তনের শুভ অধিবাস, ১৫ আগস্ট ভোর হতে অহোরাত্রি মহানাম সংকীর্তন শুরু এবং ১৭ আগস্ট ব্রাহ্মমুহুর্তে মহানাম সংকীর্তনের সমাপন। প্রতিদিন দুপুর ও রাত্রে মহাপ্রসাদ বিতরণ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তপন কান্তি দাশ, সাবেক কার্যকরী সভাপতি বিমল কান্তি দে, সহসভাপতি সাধন ধর, চন্দন দাশ, সহসভাপতি ও মহাশোভাযাত্রা উপপরিষদের আহ্বায়ক দীলিপ দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহাশোভাযাত্রা উপপরিষদের সদস্য সচিব লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য, লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক বাবুল ঘোষ বাবুন, ডা. বিধান মিত্র, অর্থ সম্পাদক রতন আচার্য্য, সাংগঠনিক সম্পাদক আশীষ চৌধুরী, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ পাল অরুন, সাবেক সভাপতি বিদ্যালাল শীল, সাধন চৌধুরী, কানু রাম দে, শিবু প্রসাদ দত্ত, ডা. কথক দাশ, দিপাল অনিন্দ্য পাল, লিপটন দেবনাথ লিপু প্রমুখ। খবর প্রেসবিজ্ঞপ্তির।

LEAVE A REPLY