অত্যন্ত তপ্ত হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতি। দুম্বদেশের মধ্যে এখন যে কথার লড়াই চলছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। তারা আশঙ্কা করছেন এই কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তুলবে। কিন্তু তাতে কোন তরফেরই থামবার লক্ষণ নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপর সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে আবারো পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘গুলি ভরা বন্দুকের মতই সতর্ক আছে’ এমন বক্তব্য দিয়ে বেশ একটা শোরগোল ফেলে দেন তিনি, যে বক্তব্যের জবাবে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতিকে একটি পারমানবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।

এবার নিউ জার্সিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি তার আগের ওই বক্তব্যে অটল রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। আমি আশা করছি তারা (উত্তর কোরিয়া) আমার কথার মাধ্যমে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পূর্ণ রূপে অনুধাবন করতে পেরেছে। আমাকে বিশ্বাস করুন, এই লোক যা করছে, তাতে সে পার পাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে কোনো কিছু হলে উত্তর কোরিয়া ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেগুলো আগের মতোই কঠোর হবে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এগুলোতে কাজ হবে বলে আশা করি। শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে আর কেউ বেশি ভালবাসে না, এটি আমি বলতে পারি।’ এদিকে উত্তর কোরিয়া এবার ডুবোজাহাজভিত্তিক ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে এমনই আভাস মিলেছে। আর এ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

দুই দেশের এই কথার লড়াইয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা। রাশিয়া মনে করছে, এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘পরিস্থিতি যখন এমন দাঁড়ায় যে, যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে, তখন, আমি মনে করি তখন পরিস্থিতি শান্ত করবার প্রথম উদ্যোগটা নিতে হয় তাকে যিনি শক্তিশালী এবং চটপটে।’ ল্যাভরভ স্পষ্টতই এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করছেন শান্তি স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপ নেবার জন্য। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলছেন, তিনি মনে করেন, যে তীব্র কথার লড়াই চলছে সেটি তার দৃষ্টিতে ভুল জবাব। উভয় পক্ষকেই শব্দ এবং বাক্য চয়নের ব্যাপারে সতর্ক হবার আহ্বান জানিয়েছে চীনও।

যুক্তরাষ্ট্রউত্তর কোরিয়া যুদ্ধ হলে সেটা ‘সর্বনাশ’ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসও। বরং এক্ষেত্রে ‘কূটনৈতিক আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে’ বলেই মনে করেন তিনি।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক ব্যবস্থা থেকে পিছু হটার কোনও লক্ষণই দেখাচ্ছেন না। শুক্রবারের টুইটে তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বহু পন্থা তার হাতে আছে। প্রয়োজন হলেই তিনি তা ব্যবহার করতে পারবেন। খবর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার।

LEAVE A REPLY