বিশেষ প্রতিনিধি

আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার মধ্যে সাম্প্রতিককালে তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গটি ছাপিয়ে ওঠে আসছে সামরিক চুক্তি করা বা না করার বিষয়টি। এ ব্যাপারে সরকারি মহল থেকে কোন কিছু বলা না হলেও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সামরিক চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার। বড় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই উষ্ণ রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকাদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পাঁচটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে এই চ্যালেঞ্জগুলো। এ পাঁচটি চ্যালেঞ্জ হলোতিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন, গঙ্গা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, স্থলসীমান্ত চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, সামরিক চুক্তি করা বা না করার সিদ্ধান্ত এবং সমুদ্রসীমানাসংক্রান্ত সব ধরনের বিরোধের মীমাংসা। এ বিষয়ে পানিসম্পদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে বাংলাদেশের এক নম্বর অগ্রাধিকারের বিষয় হলো পানি। বাংলাদেশভারত দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা চুক্তির জন্য আলোচনা করে একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। দিল্লির মূল আগ্রহ ঢাকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর জন্য বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহয়তা দিতে প্রস্তুত ভারত। তবে বাংলাদেশ প্রাধান্য দিচ্ছে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির ওপর।

তবে বাংলাদেশে নিয়োজিত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গতকাল সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হকের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে তা হল সংযোগ ব্যবস্থা (কানেক্টিভিটি)। বৈঠকে বিদেশ সচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শ্রিংলা।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের জোরদার প্রস্তুতি চলছে। এ কারণেই বিদেশ সচিবের সঙ্গে আলোচনা। সফরের জন্য বেশ কিছু বিষয়ের অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমি এখনই কিছু বলতে চাই না, এ সব ঠিক সময়ে প্রকাশ্য হবে। এই অগ্রগতি রেল, সড়ক এবং বিদ্যুৎ আদানপ্রদান ও সংযোগ বাড়ানোর বিষয়ও হতে পারে। শ্রিংলা বলেন, এই অঞ্চলে বিবিআইএন খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি এ অঞ্চলে যুগান্তকারী ফল নিয়ে আসবে। বাংলাদেশের জন্য তিস্তার পানি বণ্টন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার পানির সুষম বণ্টন বাংলাদেশের ১৮ বছরের দাবি। কিন্তু এই পানি চুক্তিটি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সম্মতি ছাড়া কেন্দ্র সরকার চুক্তিটি করতে পারবে না। ২০১১ সালে ভারত এ চুক্তি করতে সম্মত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চরম বিরোধিতার কারণে এ চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে একাধিকবার ভারত সরকারের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও এ চুক্তি কবে হতে পারে, তা বলতে পারছে না ভারত।

প্রসঙ্গত, অনেক দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয় থাকলেও বাংলাদেশ পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেনি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোজ পারিকর গত ৩১ অক্টোবর দু’দিনের সফরে যখন ঢাকায় আসেন, তখন ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকাদিল্লি সামরিক চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। তখন মনোজ পারিকর বাংলাদেশের সিনিয়র রাজনৈতিক, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

LEAVE A REPLY