কক্সবাজারের গভীর সমুদ্রের সঙ্গে এবার মিশে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতা। বিশাল সমুদ্রের জলরাশির ছোঁয়ায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আন্তরিক ও সপ্রাণ। গত ৬ মে মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনের পর উখিয়ায় ইনানী সমুদ্র সৈকতে তিনি সাগরের জলের স্পর্শ নিলেন। পেছনে তাকালে বুক যেমন হু হু করে ওঠে, তেমনি তিনি হয়ে পড়েন স্মৃতিকাতর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শৈশবে তাঁর সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বলেন, ইনানীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিও। ১৯৫৮ সালে সামরিকশাসনামলে অরণ্যঘেরা ইনানীর চেনছড়ি গ্রামে বেশ কিছুদিন ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর শুধু কক্সবাজারবাসীর জন্য আনন্দের নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় সুখের। মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন মানে সম্ভাবনা ও স্বপ্নের নতুন এক দরোজার উন্মোচন। কক্সবাজার থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ধরে সাগরের তরঙ্গমালা ও নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করতে করতে লং ড্রাইভে টেকনাফ যেতে আর কোনো সমস্যা নেই। এই সড়কের উদ্বোধনের কারণে কক্সবাজার পুরো বিশ্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী পর্যটন শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত হবে নিঃসন্দেহে। জানা যায়, কক্সবাজার থেকে টেকনাফের ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ইতোমধ্যে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কক্সবাজারের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সড়কটি। এতোদিন সড়কটির ইনানী পর্যন্ত অংশ চালু ছিলো। আর এতে প্রতিবছর ৩০ লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করতেন সড়কটি। টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার অংশ উন্মুক্ত হওয়ার ফলে এখন পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাপ কমবে কক্সবাজারটেকনাফ আরাকান সড়কের ওপর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পর্যটন বর্তমানে যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমানে এই পর্যটন শিল্পের বাণিজ্যিক আকার সারা বিশ্বেই আলাদা একটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। উন্নয়ন পরিমণ্ডলে বর্তমানে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সমাজ বিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানীদের অধ্যয়নকৃত বহু অঞ্চল এবং উক্ত অঞ্চলসমূহের জনগোষ্ঠী পর্যটন ধারণা দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প উক্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার মূলোৎপাটন ঘটিয়েছে। এই পর্যটনশিল্পের ইতিবাচক দিক হলো এই যে, এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ফলে কক্সবাজারের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এখানকার পাহাড়িয়া অঞ্চলের বনজ সম্পদ ও সমুদ্রের উপকূলে সামুদ্রিক সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই কক্সবাজারকে আরো সমৃদ্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার হবে একটি উন্নত জেলা, একটি উন্নত পর্যটন এলাকা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র। তিনি প্রধান পর্যটন শহর হিসেবে এটিকে আরো আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর আরো আনন্দের খবর যে, চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কটির চার লেনের কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ ঘোষণায় মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনের পাশাপাশি চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কটির চার লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আশাতীত সাফল্যের কথাই তুলে ধরে। এতে করে ঐ এলাকার আমূল পরিবর্তন ঘটবেতাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কক্সবাজারের সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘এ জন্য যা যা করার দরকার হবে, আমরা তা করবো।’

প্রধানমন্ত্রীর এ আন্তরিকতাকে আমরা অভিনন্দন জানাবো। পাশাপাশি তাঁর এ ঘোষণার যেন দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটে, তা প্রত্যাশা করবো। চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কটির চার লেনের স্বপ্ন যত তাড়াতাড়ি পূরণ হয়, ততোই মঙ্গল।

LEAVE A REPLY