কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ ও দখল বন্ধের দাবিতে ৬ মে কর্ণফুলী নদীতে সাম্পান খেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক একাডেমি। তাদের সুন্দর উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। মানুষকে বাঁচতে হলে চাই নির্মল ও মুক্ত আকাশ আবার বিশুদ্ধ বায়ু যেমন মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করে। তেমনি দূষিত বায়ু মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে কর্ণফুলীকে সচল রাখতে হবে। কর্ণফুলী নদী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে ওঠেছে বড় বড় চর। দেখতে অনেকটা খেলার মাঠের মত ধূ ধূ বালুচর। আশংকাজনকভাবে মোহনার ও গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। জোয়ারের সময় এসব চর ডুবে থাকলেও ভাটার সময় স্পষ্ট দেখা যায়। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের আশংকা। অন্যদিকে দেখা যায় কর্ণফুলী নদীর দু’পার দখল করে চলছে বেপরোয়া ভরাট কাজ। নদী ভরাট করে তোলা হচ্ছে নানা ধরনের অবকাঠামো। চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি, গুদাম, অফিস, জেটিসহ নানা স্থাপনা।

অবৈধ এসব স্থাপনা নদীর স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করায় ক্রমেই পলি জমে কর্ণফুলীতে চর জেগে ওঠেছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কর্ণফুলীর ন্যায় বাংলাদেশের অন্যান্য নদী নদীর নাব্যতা হ্রাস একটি বড় সমস্যা। তাই হাজার বছরের ঐতিহ্য কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে সহসাই ড্রেজিং করতে হবে। শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, নদী দূষণ নানা সমস্যায় আক্রান্ত চট্টগ্রামসহ সারা দেশ। আইন বা প্রতিরোধের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সকল দেশের শীর্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিনিয়ত এ দেশের বিভিন্ন উপায়ে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের ফলে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে সর্বমহলে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে বিভিন্ন দূষণ মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও জনগণের ও কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যথা নেই। যে আইন আছে তাও মেনে চলা হয় না। এই আইনের প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। দূষণের শিকার হয়ে মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের অর্ধেক মানুষকে। তাই, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক একাডেমি সাম্পান খেলার আয়োজনের মাধ্যমে মানুষকে যে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সুদৃষ্টি আকর্ষিত হবে। এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

এম. . গফুর, বলুয়ার দিঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

LEAVE A REPLY